শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন হত্যা মামলার আসামি রনি ওরফে ভাঙারি রনিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

গতকাল মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে রনিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন ডিবি রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) রেজাউল করিম।

নিউমার্কেট এলাকায় মোটরসাইকেলে এসে গুলি করে যুবককে হত্যা

ডিসি রেজাউল করিম প্রথম আলোকে বলেন, টিটন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রনি।

ডিবির একটি সূত্র বলছে, রনি এজাহারভুক্ত আসামি, তবে তিনি সরাসরি এ হত্যার সঙ্গে জড়িত কি না, তা যাচাই-বাছাই চলছে।

গত ২৮ এপ্রিল রাতে রাজধানীর নিউমার্কেটের পশ্চিম পাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনে বটতলায় টিটনকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় টিটনের ভাই খন্দকার সাঈদ আক্তার রিপন নিউমার্কেট থানায় মামলা করেন।

২০০১ সালে সরকারঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকার ২ নম্বরে টিটনের নাম ছিল। ঘটনার পর পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা ধারণা করছে, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যকার অন্তঃকোন্দলে টিটনকে হত্যা করা হয়েছে।

নিউমার্কেট এলাকায় গুলিতে নিহত ব্যক্তি শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন

নিহত টিটন আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের শ্যালক।

পুলিশ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, টিটনের জন্ম ১৯৬৬ সালে। তাঁর বাবার নাম কে এম ফখরুদ্দিন, মায়ের নাম আকলিমা বেগম।

পুলিশ জানায়, টিটন ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে অপরাধজগতে প্রবেশ করেন। তিনি প্রথমে স্থানীয় অপরাধী চক্রের সদস্য ছিলেন। ধীরে ধীরে অপরাধজগতে নিজের পরিচিতি বাড়াতে থাকেন। তিনি একাধিক হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেন। টিটন অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে অস্ত্রের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা ছিল, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ব্যবসায়ী বাবর এলাহী হত্যা।

শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন হত্যায় সন্দেহভাজন দুজন মোহাম্মদপুরে একসঙ্গে বড় হয়েছেন

২০০৪ সালে টিটনকে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তিনি ২০১৪ সালে বাবর এলাহী হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হন। তবে ২০২৪ সালের ১২ আগস্টে তিনি জামিনে মুক্তি পান। কারামুক্তির পর তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।

টিটন হত্যার তদন্ত আটকে মুঠোফোনে, দেড় মাসেও শনাক্ত হয়নি খুনি