ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ড শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণে। রাজধানীর অনেক এলাকায় রয়েছে তাদের তৎপরতা। কোথাও কোথাও তাদের নাম ভাঙিয়ে চলছে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। শীর্ষ সন্ত্রাসীদের এই তৎপর হয়ে ওঠার বিষয়টি জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অনেক ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্মকর্তা ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং তাদের সহযোগীদের হুমকি-ধমকির শিকার হয়েছেন। সন্ত্রাসীরা ফোনে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেছে; না দিলে প্রাণসংহারের হুমকি পর্যন্ত দিয়েছে। তাদের হুমকির কারণে অনেক ভুক্তভোগী পুলিশকে তা জানাতেও ভয় পান। শুধু ব্যক্তিপর্যায়ে নয়, রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ও ফুটপাত থেকেও প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করে সন্ত্রাসীরা। শীর্ষ সন্ত্রাসীদের গডফাদাররা টার্গেট কিলিং, টেন্ডারবাজি ও জবরদখলের মতো ঘটনারও নেতৃত্ব দেয়। এসবের প্রভাব পড়ছে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর অনেক সন্ত্রাসী জামিনে বেরিয়ে আসে। তাদের অনেকে দেশের বাইরে চলে যায়। জানা যায়, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অনেকে বিদেশে বসেই হত্যা, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, জবরদখল ইত্যাদির কলকাঠি নাড়ছে। নির্দেশনা দিচ্ছে দেশকে অস্থিতিশীল করার। বর্তমান সময়ে সন্ত্রাসীরা কেবল আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে নয়, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেও তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিদেশের মাটি থেকে নির্দেশ পাঠিয়ে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করা এখন তাদের কাছে সহজ হয়ে পড়েছে। সন্ত্রাসীদের কেউ কেউ ইতোমধ্যে দেশে ফিরেছে। আবার অনেকে চেষ্টা চালাচ্ছে দেশে ফেরার। এতে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। তাই সরকারের উচিত বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা।

সন্ত্রাস দমনে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা আমরা শুনে থাকি। কিন্তু যখন শীর্ষ সন্ত্রাসীরা অবাধে তৎপরতা চালায়, তখন সেই প্রতিশ্রুতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এসব অপরাধী লালিত-পালিত হয়। বাস্তবতা হলো, সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই। তাদের একমাত্র পরিচয় তারা অপরাধী। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচিত জেল থেকে বের হওয়া অপরাধীদের কঠোর গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা। তারা কার সঙ্গে মিশছে, কী করছে, এসব তথ্য আপডেট রাখা। যারা দেশের বাইরে বসে কলকাঠি নাড়ছে, তাদের ইন্টারপোলের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনার জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে।

দেশে সবে একটি নতুন সরকার এসেছে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তন বা প্রশাসনিক শিথিলতার সুযোগ নিয়ে সন্ত্রাসীরা পুরোনো সহযোগীদের একত্র করবে, এটাই স্বাভাবিক। এর ফলে দেশ যদি আন্ডারওয়ার্ল্ডের প্রভাবাধীনে চলে যায়, তাহলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক শান্তি উভয়ই মুখ থুবড়ে পড়বে। কাজেই কোনো সন্ত্রাসীচক্র যেন দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তৎপরতা অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে হবে।