সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য, আচরণ ও নিরাপত্তার ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলছে-তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এমন এক সময় যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন আইন প্রণয়নের আলোচনা চলছে; কিন্তু এ উদ্যোগের মধ্যেই নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জায়ান্ট মেটা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের হাতে আসা একটি গোপন খসড়া প্রস্তাবনা অনুযায়ী, মেটা এমন একটি আইনি ধারা যুক্ত করার জন্য মার্কিন কংগ্রেসে তদবির চালাচ্ছে, যা পাশ হলে ১৮ বছরের কম বয়সিদের অনলাইন নিরাপত্তা ও গোপনীয়তাসংক্রান্ত ক্ষতির ঘটনায় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো ব্যাপক দায়মুক্তি পেতে পারে।
বর্তমানে ‘কিডস অনলাইন সেইফটি অ্যাক্ট’ (কেওএসএ) নামে আলোচিত বিলটি মার্কিন সিনেটে বিবেচনাধীন রয়েছে। বিলটির মূল উদ্দেশ্য হলো সামাজিক মাধ্যম কোম্পানিগুলোকে শিশু ও কিশোরদের আসক্তি, মানসিক ক্ষতি এবং অনলাইন ঝুঁকি থেকে সুরক্ষার জন্য আরও দায়িত্বশীল করা। কিন্তু মেটার প্রস্তাবিত সংশোধনী যুক্ত হলে শিশুদের ক্ষতির অভিযোগে চলমান হাজার হাজার মামলার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সমালোচকরা।
মেটার বিরুদ্ধে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে হাজারো তরুণ ব্যবহারকারী ও তাদের পরিবারের মামলা বিচারাধীন রয়েছে। অভিযোগ, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্মে ব্যবহৃত অবিরাম স্ক্রলিং, ঘনঘন নোটিফিকেশন এবং চেহারা পরিবর্তনকারী ফিল্টারের মতো ফিচার তরুণদের মধ্যে আসক্তি ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে।
তবে মেটার দাবি ভিন্ন। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, তারা কোনো ধরনের ‘ঢালাও দায়মুক্তি’ চাইছে না। বরং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের বিচ্ছিন্ন আইন ও মামলার পরিবর্তে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা বিষয়ে একটি অভিন্ন জাতীয় মানদণ্ড প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তারা এ প্রস্তাব দিয়েছে।
অন্যদিকে ভুক্তভোগীদের পক্ষে কাজ করা আইনজীবীরা বলছেন, প্রস্তাবিত ধারাটি কার্যকর হলে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে। তাদের মতে, এটি শিশুদের সুরক্ষার চেয়ে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর আইনি ঝুঁকি কমানোর প্রচেষ্টাই বেশি।
সব মিলিয়ে, কেওএসএ বিলকে ঘিরে বিতর্ক এখন শুধু শিশুদের নিরাপত্তা নয়; বরং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ক্ষমতা, দায়বদ্ধতা এবং জনস্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার প্রশ্নেও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।








