কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার

শিশুদের কোমল ত্বকে হুট করে দেখা যায়, ছোট ছোট লালচে গুটি কিংবা ফোসকা দেখা দেয়। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন যেকোনো অভিভাবক। বিশেষ করে বর্ষা বা গরমের দিনে প্লে-স্কুল ও নার্সারিগামী শিশুদের মধ্যে বা আরও ছোট বাচ্চাদের মধ্যে একটি সংক্রামক ব্যাধি প্রায়ই ছড়িয়ে পড়ে। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘হ্যান্ড, ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ’। এটি মূলত শিশুদের একটি ছোঁয়াচে ভাইরাল সংক্রমণ। সময়মতো সঠিক যত্ন ও সচেতনতা থাকলে সামান্য চিকিৎসাতেই এটি পুরোপুরি সেরে যায়।

হ্যান্ড, ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ হলো একধরনের অতিসংক্রামক মৌসুমি ভাইরাল ইনফেকশন। এটি মূলত ছোট বাচ্চাদের শরীর আক্রান্ত করে। রোগটির নামের মধ্যেই এর ধরন লুকিয়ে রয়েছে। এই রোগে আক্রান্ত শিশুর হাত, পা ও মুখের ভেতরে লালচে দানা কিংবা ব্যথাদায়ক ফোসকা দেখা যায়। ৫ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে সাধারণত এর প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা গেলেও শিশুশ্রেণি ও নার্সারির বাচ্চারাই এর প্রধান শিকার হয়।

হ্যান্ড, ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ ‘এন্টারোভাইরাস’ গোত্রের ভাইরাসে মূলত হয়ে থাকে। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দায়ী দুটি নির্দিষ্ট ভাইরাস হলো—

এ ছাড়া মাঝে মাঝে কক্সস্যাকিভাইরাস এ৬ দিয়েও এই সংক্রমণ ঘটতে পারে।

এই রোগ সব বয়সের মানুষের হতে পারে, তবে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এর ঝুঁকি অনেক বেশি।

এই ভাইরাসগুলো অত্যন্ত দ্রুত ছড়াতে পারে। রোগটি ছড়ানোর প্রধান মাধ্যমগুলো হলো:

সাধারণত এইচএফএমডি কোনো মারাত্মক রোগ নয়। ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে এমনিতেই সেরে যায়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিতে পারে:

এখনো এই ভাইরাল ইনফেকশনের কোনো নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ আবিষ্কৃত হয়নি। চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হলো রোগের লক্ষণগুলো উপশম করা এবং শিশুকে স্বস্তিতে রাখা:

এইচএফএমডি থেকে শিশুদের সুরক্ষিত রাখতে সচেতনতাই সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। কিছু নিয়ম মেনে চললে রোগের ঝুঁকি অনেক কমানো সম্ভব:

যদি দেখেন শিশুর জ্বর তিনি দিনের বেশি স্থায়ী হচ্ছে, শিশু একেবারেই তরল খাবার সে গিলতে পারছে না, প্রস্রাবের পরিমাণ অনেক কমে গেছে, অথবা শিশু অতিরিক্ত নিস্তেজ হয়ে পড়ছে, তাহলে মোটেই কালবিলম্ব না করে নিকটস্থ শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত।

অভিভাবকদের সঠিক যত্ন, সুষম খাদ্যাভ্যাস আর একটু সচেতনতাই পারে শিশুকে দ্রুততম সময়ে সুস্থ করে তুলতে।

ডা. কাকলী হালদার, সহকারী অধ্যাপক, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ