স্মার্টফোন এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। অফিসের কাজ, অনলাইন ব্যাংকিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিনোদন-সবকিছুর জন্যই ফোনের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। আর সেই কারণে প্রতিদিন অন্তত একবার ফোন চার্জ দেওয়া এখন প্রায় সবারই অভ্যাস। তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, প্রতিদিন ফোন চার্জ দিলে মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল কতটা বাড়ে?

বাস্তবে এর উত্তর অনেকের ধারণার সঙ্গেই মিলবে না। সাধারণভাবে বর্তমানে বেশিরভাগ স্মার্টফোনের ব্যাটারির ধারণক্ষমতা ৪,৫০০ থেকে ৬,০০০ এমএএইচ এবং চার্জার ২০ থেকে ৪৫ ওয়াট ক্ষমতার হয়ে থাকে। একটি সম্পূর্ণ চার্জ দিতে গড়ে ১৫ থেকে ২৫ ওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ খরচ হয়। চার্জিংয়ের সময় কিছু শক্তি তাপ হিসেবে অপচয় হওয়ায় প্রকৃত খরচ সামান্য বেশি হতে পারে।

আরও পড়ুন

বৃষ্টিতে মোবাইল ফোন ভিজে গেলে ৫ ভুল করবেন না

যদি প্রতিদিন গড়ে ০.০২ কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়, তাহলে এক মাসে (৩০ দিন) মোট বিদ্যুৎ খরচ হবে প্রায় ০.৬ কিলোওয়াট-ঘণ্টা। এখন যদি প্রতি ইউনিট (১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা) বিদ্যুতের গড় মূল্য ১০ টাকা ধরা হয়, তাহলে এক মাসে একটি স্মার্টফোন প্রতিদিন একবার চার্জ করতে খরচ হবে মাত্র প্রায় ৬ টাকা। এমনকি প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১২ টাকা হলেও মাসিক খরচ দাঁড়াবে প্রায় ৭ থেকে ৮ টাকা।

অর্থাৎ অনেকেই মনে করেন স্মার্টফোন চার্জ দিতে অনেক বিদ্যুৎ খরচ হয়, কিন্তু বাস্তবে একটি ফোনের চার্জিং খরচ একটি এলইডি বাল্ব কয়েক ঘণ্টা জ্বালানোর খরচের কাছাকাছিও নয়।

তবে খরচ কম রাখতে কিছু বিষয় মেনে চলা ভালো। সব সময় ভালো মানের বা নির্মাতার দেওয়া চার্জার ব্যবহার করুন। অপ্রয়োজনে ফোন সারারাত চার্জে লাগিয়ে রাখার প্রয়োজন নেই। যদিও আধুনিক স্মার্টফোনে ব্যাটারি ১০০ শতাংশ পূর্ণ হলে চার্জিং প্রায় বন্ধ হয়ে যায়, তবুও দীর্ঘ সময় চার্জে রেখে দিলে চার্জারের সামান্য স্ট্যান্ডবাই বিদ্যুৎ খরচ হতে পারে।

এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত চার্জার বা নিম্নমানের অ্যাডাপ্টার ব্যবহার করলে শুধু বিদ্যুতের অপচয়ই নয়, ব্যাটারির আয়ুও কমে যেতে পারে। তাই নিরাপদ ও মানসম্মত চার্জিং অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।

প্রতিদিন একবার স্মার্টফোন চার্জ দিলে মাসে বিদ্যুৎ বিলের ওপর খুব বেশি প্রভাব পড়ে না। বরং ওয়াই-ফাই রাউটার, রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার কিংবা গিজারের তুলনায় স্মার্টফোন চার্জিংয়ের বিদ্যুৎ খরচ অত্যন্ত কম। তাই ফোন চার্জ দেওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তার চেয়ে নিরাপদ চার্জিং এবং ব্যাটারির সঠিক যত্ন নেওয়ার দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

আরও পড়ুন

ফোন হ্যাকারদের নজরে কি না ৫ লক্ষণে বুঝে নিন

কেএসকে