মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি স্মরণসভা
মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর পূর্তিতে নিহত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মীদের স্মরণে গভীর শোক প্রকাশের পাশাপাশি আহত ও স্বজনহারাদের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেছেন, ‘ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা পুরো জাতিকে শোকাহত করেছে। তবে শোককে শক্তিতে পরিণত করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে এবং আহতদের সাহস ও দৃঢ়তা থেকে নতুন প্রজন্মকে শিক্ষা নিতে হবে।’
আজ মঙ্গলবার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি আয়োজিত ‘মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি শ্রদ্ধাঞ্জলি ও স্মরণসভা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে নিহতদের স্মরণ করে জুবাইদা রহমান বলেন, ‘আজ এমন একটা দিন, যেদিন আমাদের দেশ ও জাতি গভীরভাবে শোকাহত, মর্মাহত। শোককে শক্তিতে পরিণত করে আপনারা যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন, জাতি তা কোনো দিন ভুলবে না।’
এ সময় জুবাইদা রহমান নিহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে আরিয়ান, মরিয়ম, ওয়াকিয়া, রাইসা, মনিব, বোরহানউদ্দিন, বাপ্পি, শারিয়া আক্তার, নুসরাত জাহান আনিকা, সাইমা আক্তার, হুমায়ুন নূর, ফাতেমা, মোহাম্মদ জুনায়েদ হাসান, সাদ শাফিয়াউদ্দিন, তাসনিম আফরোজ, মাহিদ হাসান, আব্দুল্লাহ শামিম, তাহিয়া আশরাফ, নাজিয়া, মাহতাব রহমান, শায়ান ইউসুফ, তারিফ ফারহান, মোহাম্মদ আফনান ফয়াজ, শামিউল করিম, আব্দুল মুসাব্বির মাহমুদ, চান্দ মারমা, সাহিল ফারাবি, আরিয়ান মাহিয়া, তাসলিম, তাসনিয়া হক ও তানভীর আহমেদের নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
জুবাইদা রহমান আরও স্মরণ করেন রজনী ইসলাম, লামিয়া আক্তার, আফসানা প্রিয়া, কো-অর্ডিনেটর মাহরীন চৌধুরী, সিনিয়র শিক্ষক মাসুকা বেগম, সিনিয়র শিক্ষক মাহফুজা খাতুন এবং কর্মচারী মাসুমা বেগমকে।
ভয়াবহ স্মৃতি কাটিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর স্বাভাবিক জীবনে ফেরার লড়াইকে অনুপ্রেরণার উৎস উল্লেখ করে জুবাইদা বলেন, ‘ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পরও আপনারা যেভাবে সাহস ও সংকল্প নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন, তা আমাদের সবার জন্য প্রেরণা। সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সাহসিকতার সঙ্গে ভয়কে জয় করার যে দৃষ্টান্ত আপনারা স্থাপন করেছেন, দেশ ও জাতি তার জন্য কৃতজ্ঞ।’
সংকটময় মুহূর্তে চিকিৎসাসেবা ও সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সেবামূলক সংস্থা, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব), জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন এবং বার্ন ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকদের ধন্যবাদ জানান ডা. জুবাইদা রহমান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন নিহতদের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘নিহত তাসনিয়ার বাবার বক্তব্য শুনে চোখের জল ধরে রাখতে পারিনি। এক বছর আগের সেই দিনে শিক্ষিকা মাহরীন চৌধুরী নিজের জীবনের পরোয়া না করে সন্তানের মতো শিক্ষার্থীদের প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আহত শিক্ষার্থীদের ফলোআপ চিকিৎসা চলছে এবং প্রয়োজন হলে তাদের আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকার সব ধরনের সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও সে সময় থেকে শুরু করে নিয়মিত তাদের খোঁজখবর রাখছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত, সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার এবং বার্ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন।
এ ছাড়া চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রদূতগণসহ চিকিৎসাকর্মী, আহত শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং নিহতদের অভিভাবকেরা স্মরণসভায় অংশ নেন। এর আগে আহত ও নিহতদের পরিবারের সদস্য এবং কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূতেরা বক্তব্য দেন।








