কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পাথর আমদানি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রেখেছেন আমদানিকারকরা। এতে স্থলবন্দরের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও পরিবহনসংশ্লিষ্টরা বিপাকে পড়েছেন। একই সঙ্গে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

জানা গেছে, ভারতের গোলকগঞ্জ স্থলবন্দরে পাথর ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট, দাম বৃদ্ধি এবং চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে গত ১৮ জুলাই থেকে সোনাহাট স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীরা পাথর আমদানি বন্ধ রেখেছেন।

বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, সাধারণত প্রতিদিন গড়ে ১০০টি ভারতীয় ট্রাক পাথর নিয়ে বন্দরে প্রবেশ করলেও গত ছয় দিন ধরে একটি ট্রাকও আসেনি।

আমদানিকারকদের অভিযোগ, ভারতীয় ব্যবসায়ীরা কয়েক দিন ধরে নিম্নমানের পাথর সরবরাহ করছেন। রিভার স্টোন বোল্ডারের পরিবর্তে ছোট আকারের পাথর পাঠানো হচ্ছে। অটোক্রাশ মেশিনে ভাঙার পর এসব পাথরের মান ও আকার ঠিক না থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো তা কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

তাদের দাবি, আগে প্রতি টন রিভার স্টোনের দাম ছিল ১১ ডলার। বাংলাদেশে পৌঁছাতে খরচ হতো প্রায় এক হাজার ৩০০ টাকার মতো। বর্তমানে দাম বেড়ে ১৩ দশমিক ৫ ডলার হওয়ায় প্রতি টনের খরচ দাঁড়িয়েছে প্রায় এক হাজার ৬৭০ টাকা। এছাড়া খনি থেকে সরাসরি পাথর ট্রাকে তোলায় মাটি ও বালির পরিমাণও বেশি থাকছে। এসব কারণে ব্যবসায়ীরা আমদানি বন্ধ রেখেছেন।

আরও পড়ুন

নারায়ণগঞ্জে মাদক মামলায় যুবকের কারাদণ্ড

শ্রমিক হাশেম আলী ও আছর উদ্দিন বলেন, পাথর না আসায় কাজ নেই। পরিবার নিয়ে কষ্টে দিন কাটছে।

ট্রাকচালক ফরিদুল ইসলাম বলেন, পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় আয়-রোজগার অনেক কমে গেছে।

আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক আবু হেনা মাসুম বলেন, ভারত থেকে নিম্নমানের পাথর আসায় ঠিকাদাররা তা কিনছেন না। তাই আপাতত পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে।

সোনাহাট স্থলবন্দরের কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম আকমল বলেন, ভারতে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে পাথর ব্যবসায় সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম, পাথরের মানও খারাপ। এর সঙ্গে দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা আমদানি বন্ধ রেখেছেন।

সোনাহাট স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) আমিনুল হক বলেন, দুই দেশের ব্যবসায়ীদের সমস্যার কারণে পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে। এতে সরকার প্রতিদিন বিপুল প‌রিমান রাজস্ব হারাচ্ছে।

রোকনুজ্জামান মানু/এনএইচআর/জেআইএম