স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের পর সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিলেন লামিন ইয়ামাল। তবে মাঠের বাইরেও আরেকটি নাম ঝড় তুলেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তিনি হচ্ছেন লামিন ইয়ামালের ছোট ভাই কেইন ইয়ামাল। মাত্র তিন বছর বয়সী এই শিশুর হাসি, নাচ, গোল উদযাপন আর ভাইয়ের প্রতি ভালোবাসা কোটি মানুষের মন জয় করেছে। ফলে অনেকেই খুঁজছেন, কেইনের ইনস্টাগ্রাম অনুসারী কত?

এর সহজ উত্তর হলো কেইনের কোনো ভেরিফায়েড বা আনুষ্ঠানিক ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট নেই। এখন পর্যন্ত ইয়ামালের পরিবার বা কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র কেইনের নামে কোনো অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের কথা নিশ্চিত করেনি। সামাজিক মাধ্যমে তার নামে যেসব অ্যাকাউন্ট দেখা যায়, সেগুলোর বেশির ভাগই ফ্যান পেজ বা অননুমোদিত অ্যাকাউন্ট।

jagoভাই লামিন ইয়ামাল ও তার মা শেইলা এবানার ইনস্টাগ্রাম পোস্টে নিয়মিত দেখা যায় কেইনকে

তাহলে মানুষ কেন খুঁজছে?

বিশ্বকাপ চলাকালে কেইন প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই গ্যালারিতে ছিলেন। কখনো ‘ভামোস’ বলে চিৎকার, কখনো গোলের পর নাচ, আবার কখনো বড় ভাইকে দেখে উচ্ছ্বাস সব মিলিয়ে টিভি ক্যামেরার অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হন তিনি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো তাকে স্পেন দলের ‘স্পেনের সবচেয়ে ছোট সুপারফ্যান’ বলেও আখ্যা দিয়েছে। অনেক সমর্থক মজা করে বলেন, স্পেনের ম্যাচে কেইন গ্যালারিতে থাকলে দল আরও ভালো খেলে!

কোথায় দেখা যাবে কেইনকে?

কেইনের নিজের অ্যাকাউন্ট না থাকলেও তাকে নিয়মিত দেখা যায় পরিবারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ভাই লামিন ইয়ামাল ও তার মা শেইলা এবানার ইনস্টাগ্রাম পোস্টে নিয়মিত দেখা যায় কেইনকে। বিশেষ করে দুই ভাইয়ের নাচ, খেলা কিংবা পারিবারিক মুহূর্তের ভিডিও টিকটক, ইনস্টাগ্রাম ও এক্সে লাখ লাখ মানুষ দেখছেন। বিশ্বকাপ চলাকালে কেইনকে নিয়ে তৈরি অসংখ্য ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।

লামিন ইয়ামালের ইনস্টাগ্রাম পোস্ট ও স্টোরিতে দেখা যায় ডাইপার পরা-মুখে চুষনি দেওয়া কেইনের নাচ-দুষ্টমি। মা শেইলা এবানার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে বা স্পেন জাতীয় দল ও বার্সেলোনার বিভিন্ন ভিডিওতেও দেখা যায় কেইনকে। লামিনের সঙ্গে নাচ, খেলাধুলা কিংবা উদযাপনের ভিডিওগুলো লাখো থেকে কোটি ভিউ পাচ্ছে।

কেইনের মা শেইলা এবানার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ৭ লাখের বেশি অনুসারী রয়েছে। কেইনকে নিয়ে করা পারিবারিক ছবিগুলোই সেখানে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়। এমনকি আন্তর্জাতিক কিছু ব্র্যান্ডও কেইনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রচারণার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বড় ভাই ইয়ামালের জনপ্রিয়তার প্রভাব

কেইনের জনপ্রিয়তার পেছনে অবশ্যই বড় ভূমিকা রেখেছেন লামিন ইয়ামাল। ইনস্টাগ্রামে ইয়ামালের কোটি কোটি অনুসারী রয়েছে। তিনি যখনই ছোট ভাইয়ের সঙ্গে কোনো ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করেন, তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। ফলে অনেকেই মনে করেন, নিজের অ্যাকাউন্ট না থাকলেও কেইন ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত মুখে পরিণত হয়েছেন।

jagoকেইনের জনপ্রিয়তার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছেন লামিন ইয়ামাল

ভুয়া অ্যাকাউন্ট থেকে সতর্ক

বিশ্বকাপে ভাইরাল হওয়ার পর ইনস্টাগ্রাম, টিকটক ও এক্সে কেইনের নামে অসংখ্য ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়েছে। অনেকেই সেগুলোকে অফিসিয়াল দাবি করলেও এখন পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অ্যাকাউন্টের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি। তাই কেইনকে অনুসরণ করতে চাইলে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হলো লামিন ইয়ামাল বা তার পরিবারের অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টগুলো অনুসরণ করা।

মাত্র তিন বছর বয়সেই কেইন ইয়ামাল বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে পরিচিত শিশুদের একজন হয়ে উঠেছেন। তবে এই মুহূর্তে তার নিজের কোনো অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট নেই। তার জনপ্রিয়তা মূলত বড় ভাই লামিন ইয়ামালের পোস্ট, পরিবারের অ্যাকাউন্ট এবং বিশ্বকাপের ভাইরাল ভিডিওগুলোর মাধ্যমেই ছড়িয়ে পড়েছে।

কেএসকে