নকআউটে স্পেনকে এড়াতে হলে জেতা যাবে না- এমন একটি কথাই প্রচলিত হয়ে গিয়েছিল অস্ট্রিয়া এবং আলজেরিয়ার ক্ষেত্রে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে এই দুই দল মুখোমুখি। ম্যাচের আগে তাই দু’দলের কোচকেই এ নিয়ে কথা বলতে হয়েছে।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে স্পেনকে এড়ানোর সুযোগ থাকলেও অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়া জানিয়ে দিয়েছে, তারা কোনো হিসাব-নিকাশে যাবে না। রোববারের মুখোমুখি লড়াইয়ে দুই দলই জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে।

গ্রুপ ‘জে’-এর শেষ ম্যাচ শুরুর আগেই দুই দল জানবে নকআউট পর্বের সম্ভাব্য সূচি এবং আর্জেন্টিনার পেছনে দ্বিতীয় বা তৃতীয় হয়ে শেষ করলে কার বিপক্ষে খেলতে হবে।

বর্তমান সূচি অনুযায়ী, গ্রুপ ‘জে’-এর রানার্সআপ দল শেষ ৩২-এ খেলবে গ্রুপ ‘এইচ’-এর চ্যাম্পিয়নের বিপক্ষে, যেখানে বর্তমান ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন রয়েছে। অন্যদিকে তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দল খেলবে গ্রুপ ‘বি’-এর বিজয়ীর বিপক্ষে, যেখানে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ হিসেবে সুইজারল্যান্ডকে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়া- দুই দলেরই সংগ্রহ তিন পয়েন্ট। গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় বর্তমানে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে অস্ট্রিয়া। ড্র হলে প্রায় নিশ্চিতভাবেই দুই দলই নকআউট পর্বে উঠে যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রিয়ার কোচ রালফ রাংনিককে জিজ্ঞেস করা হয়, স্পেনকে এড়াতে তিনি কি জয়ের চেষ্টা করবেন না? তিনি স্পষ্ট জবাব দেন, ‘না, একেবারেই না।’

শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে রাংনিক বলেন, ‘ম্যাচ শুরু হওয়ার পর আমরা সবকিছু জানব; কিন্তু সেটি আমাদের ম্যাচে কোনো প্রভাব ফেলবে না। আগামীকাল ড্র করলেও আমরা এগিয়ে যেতে পারি, কিন্তু আমরা কোনো ম্যাচে নেমে বলতে পারি না যে আমরা শুধু ড্রয়ের জন্য খেলব।’

আলজেরিয়ার কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচও একই ধরনের বার্তা দেন। স্পেনকে এড়ানোর জন্য তার দল ড্র করতে চাইবে- এমন ধারণা তিনি নাকচ করে দেন।

তিনি বলেন, ‘ফুটবলে যদি বা কিন্তু বলে কিছু নেই। আমাদের সব সময় একইভাবে ভালো খেলার প্রবল ইচ্ছা এবং জয়ের দৃঢ় মানসিকতা নিয়ে প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হবে।’

‘ম্যাচের পর কী হয়, সেটা দেখা যাবে। কিন্তু পরের পর্বে ওঠা এবং আমাদের লক্ষ্য পূরণ করতে হলে আগে জয়ের জন্য চেষ্টা করে সেই যোগ্যতা অর্জন করতে হবে।’

অন্যদিকে এই ম্যাচের আগে আবারও আলোচনায় এসেছে ১৯৮২ বিশ্বকাপের কুখ্যাত ‘ডিসগ্রেস অব গিজহন’। সেবার পশ্চিম জার্মানি ১-০ গোলে অস্ট্রিয়াকে হারিয়েছিল। ওই ফলের কারণেই দুই দল নকআউটে উঠে যায়, আর বাদ পড়ে আলজেরিয়া। প্রথম গোলের পর দুই দলই কার্যত আক্রমণ বন্ধ করে দেয়, যা বিশ্ব ফুটবলে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল।

সেই ঘটনার পর থেকেই গ্রুপ পর্বের শেষ রাউন্ডের সব ম্যাচ একই সময়ে আয়োজনের নিয়ম চালু করে ফিফা। রাংনিক বলেন, ‘আমার খেলোয়াড়রা যদি এ বিষয়ে কিছু জেনে থাকে, তাহলে হয়তো গত কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহে সংবাদপত্রে পড়েছে; কিন্তু আমি মনে করি না, আগামীকালের ম্যাচে বা মাঠের ঘটনাপ্রবাহে এর কোনো প্রভাব পড়বে।’

অস্ট্রিয়ার মিডফিল্ডার কনরাড লাইমারও একই সুরে বলেন, ‘আমরা মাঠে নামব জয়ের জন্য। সামনে কে থাকবে, সেটা আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়।’

গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়া- দুই দলই আর্জেন্টিনার কাছে হেরেছে এবং ইতোমধ্যেই বিদায় নিশ্চিত হওয়া জর্ডানকে হারিয়েছে। তাই শনিবারের লড়াই নির্ধারণ করবে, কে দ্বিতীয় এবং কে তৃতীয় হয়ে নকআউট পর্বে যাবে।

আরএএইচইউএল/আইএইচএস/