ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে পর্তুগাল। এই জয়ে বিশ্বকাপে নিজের যাত্রা আরও দীর্ঘায়িত করেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। বিতর্কিত এক ম্যাচে, যেখানে ক্রোয়েশিয়ার একটি গোল বাতিল হয়, পর্তুগাল নাটকীয় জয় তুলে নেয়। তবে শিরোপার পথে এবার তাদের সামনে বড় বাধা স্পেন।
আগামী সোমবার শেষ ষোলোর ম্যাচে স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার আগে ৪১ বছর বয়সী রোনালদো প্রতিপক্ষ সম্পর্কে বলেন, ‘আমরা জানি, স্পেন বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম ফেবারিট। সামনে খুব কঠিন একটি ম্যাচ অপেক্ষা করছে, যেমন এখন থেকে প্রতিটি ম্যাচই কঠিন হবে। তবে আমি বিশ্বাস করি আমরা প্রস্তুত থাকব। আমরা ওদের খুব ভালো করেই চিনি। ম্যাচটি খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে, এরপর কী হয় দেখা যাবে। আমি ভালো অনুভব করছি, শারীরিকভাবেও পুরোপুরি ফিট আছি। বিশ্বকাপ কঠিন একটি টুর্নামেন্ট, কারণ এখানে অসংখ্য তারকা খেলোয়াড় অংশ নিচ্ছে।
দুই দলের সর্বশেষ লড়াই ছিল গত জুনে উয়েফা নেশনস লিগের ফাইনালে। নির্ধারিত সময়ে ২-২ সমতার পর টাইব্রেকারে জিতে শিরোপা জিতেছিল কোচ রবার্তো মার্তিনেজের পর্তুগাল। সেই ম্যাচে পর্তুগালের হয়ে গোল করেছিলেন রোনালদো, আর স্পেনের হয়ে গোল করেন মার্তিন জুবিমেন্দি ও মিকেল ওইয়ারজাবাল।
ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষেও গোল করেছেন রোনালদো। ম্যাচের ৬৮তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে সমতা ফেরান তিনি, এর আগে ক্রোয়েশিয়াকে এগিয়ে দিয়েছিলেন ইভান পেরিসিচ। ৪১ বছর বয়সে এটি ছিল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে রোনালদোর প্রথম গোল। এর আগে তিনি পাঁচটি বিশ্বকাপে খেললেও নকআউট পর্বে কখনও গোল করতে পারেননি।
ম্যাচ শেষে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল পরের রাউন্ডে ওঠা। আমরা এক সময়ে একটি ম্যাচ নিয়েই ভাবছি। পেনাল্টির মুহূর্তে আমি কখনও ভয় পাই না। স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা স্নায়ুচাপ থাকে, কিন্তু আমি সবসময় ইতিবাচক মানসিকতা ধরে রাখি এবং বিশ্বাস করি, সবকিছু ঠিকঠাকই হবে।’
ম্যাচের ৮১তম মিনিটে রোনালদোর পরিবর্তে মাঠে নামেন রুবেন নেভেস। বেঞ্চে বসেই তিনি দেখেন গনসালো রামোস অতিরিক্ত সময়ে জয়সূচক গোল করে পর্তুগালকে শেষ ষোলোতে তুলে নেন।
স্পেনের বিপক্ষে রোনালদোর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। ক্লাব ও জাতীয় দল—দুই পর্যায়েই তিনি স্পেনের একাধিক প্রজন্মের ফুটবলারদের বিপক্ষে খেলেছেন।
দুই দেশের প্রথম বড় টুর্নামেন্টের লড়াই হয় ইউরো ২০০৪-এ। তখন নুনো গোমেসের একমাত্র গোলে জিতে স্পেনকে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় করেছিল পর্তুগাল।
তবে এরপর স্পেন দুবার বড় মঞ্চে প্রতিশোধ নেয়। ২০১০ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে ডেভিড ভিয়ার একমাত্র গোলে পর্তুগালকে হারিয়ে স্পেন শিরোপা জেতে। এরপর ইউরো ২০১২-এর সেমিফাইনালে গোলশূন্য ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে জিতে আবারও পর্তুগালকে বিদায় করে স্পেন এবং শেষ পর্যন্ত শিরোপা ধরে রাখে।
বিশ্বকাপে দুই দলের সর্বশেষ দেখা হয় ২০১৮ সালে। সেবার রোমাঞ্চকর ম্যাচটি ৩-৩ গোলে ড্র হয়েছিল, যেখানে রোনালদো দুর্দান্ত একটি হ্যাটট্রিক করেছিলেন।
ইতিহাসের পরিসংখ্যান বলছে, গুরুত্বপূর্ণ আসরে স্পেন একাধিকবার রোনালদোর শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ভেঙেছে। এবার শেষ ষোলোর লড়াইয়ে সেই ইতিহাস বদলাতে চান পর্তুগিজ মহাতারকা।
আরআর








