স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বেসরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।

রবিবার (২৮ জুন) স্থানীয় সরকার নির্বাচনসংক্রান্ত প্রস্তুতি নিয়ে অনুষ্ঠিত কমিশনের এক বৈঠকে বিষয়টি প্রাথমিকভাবে আলোচনা হয়। বৈঠকে চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিব এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‍“স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে, বেসরকারি শিক্ষকদের প্রার্থিতার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নিয়ে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে।”

তিনি বলেন, “একজন সার্বক্ষণিক শিক্ষক একই সময়ে জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালন করতে পারবেন কি না, কমিশন সেই বিষয়টি বিবেচনা করছে। কারণ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব ও কাজের পরিধি আগের তুলনায় বেড়েছে।”

ইসি সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতিও এগিয়ে নিচ্ছে। ব্যালট বাক্স, প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, পোলিং কর্মকর্তা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। প্রয়োজন হলে কিছু নতুন ভোটকেন্দ্রও যুক্ত করা হতে পারে।

ইসি অক্টোবর মাসকে সামনে রেখে প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে। সে অনুযায়ী, নির্বাচন হলে প্রায় ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে বলে কমিশন জানিয়েছে। 

বর্তমান আইনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীর অযোগ্যতার ক্ষেত্রে সরকারি বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের লাভজনক পদে কর্মরত ব্যক্তিদের বিষয়ে বিধান থাকলেও বেসরকারি বা এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বিষয়ে আলাদা কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তাই এ বিষয়ে প্রয়োজন হলে আইন সংশোধনের বিষয়টিও বিবেচনায় আসতে পারে।

ইসি কর্মকর্তারা বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি থাকলেও নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময়সূচি অনেকাংশে সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়েই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু হতে পারে।