সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস শেয়ারবাজারে বড় উত্থান হলেও দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার (২৯ জুন) মূল্যসূচকের মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক বাড়লেও শরিয়াহ সূচক কমেছে। সেই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। তবে দাম বাড়ার তালিকায় বেশি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশি প্রতিষ্ঠান। এরপরও বাজারটিতে কমেছে মূল্যসূচক। সেই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।
এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মেলে। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়ায় লেনদেনের ১০ মিনিটের মাথায় ডিএসইর প্রধান সূচক ২৭ পয়েন্ট বেড়ে যায়। তবে প্রথম ঘণ্টার লেনদেন পার হতেই বাজারে ঢালাও দরপতন হতে থাকে। এতে এক পর্যায়ে সূচক ঋণাত্মক হয়ে পড়ে।
অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে পতনের শঙ্কা দেখা দেয়। তবে শেষ এক ঘণ্টার লেনদেনে দাম কমার তালিকা থেকে বেরিয়ে বেশি কিছু প্রতিষ্ঠান দাম বাড়ার তালিকায় চলে আসে। এতে দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি প্রধান মূল্যসূচক বেড়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১৭৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ১৫৮টির এবং ৬৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১০০টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৬৫টির দাম কমেছে এবং ৩৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৩০টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৪৪টির এবং ১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪৮টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৪৯টির এবং ২৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ৭টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৭টির দাম কমেছে এবং ২০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ২ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৭২২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৩ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৬৬ পয়েন্টে উঠে এসেছে। তবে ডিএসই শরিয়াহ সূচক দশমিক ২২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৫৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
প্রধান মূল্যসূচক বাড়লেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৩৫১ কোটি ৫১ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১ হাজার ৩৭১ কোটি ৩ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ১৯ কোটি ৫২ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে বেক্সিমকোর শেয়ার। কোম্পানিটির ৭২ কোটি ৪৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা আইপিডিসি ফাইন্যান্সের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৬২ কোটি ৩১ লাখ টাকার। ৪২ কোটি ৬৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- এনসিসি ব্যাংক, মালেক স্পিনিং, বিডি থাই অ্যালুমেনিয়াম, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, আইটি কনসালট্যান্টস এবং সিটি ব্যাংক।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ২ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৪৫ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০৫টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১০৩টির এবং ৩৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৩৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৩৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।
এমএএস/এমআইএইচএস/








