দেশে ফল উৎপাদন বাড়লেও মৌসুমে বিপুল পরিমাণ ফল নষ্ট হচ্ছে। এ ক্ষতি কমাতে ফল দ্রুত বাজারজাতকরণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানির ওপর সমান গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে কৃষি ও উদ্যানতত্ত্ব খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো ছাড়া ফল প্রক্রিয়াজাত শিল্পের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
শনিবার (২৭ জুন) সকালে রাজধানীর বাড্ডায় জাগো নিউজ কার্যালয়ে ‘ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ: সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ কথা বলেন কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম খান।
আরও পড়ুন
বিদেশি ফলের দাপটে বিলুপ্তির পথে দেশি জাত
দেশে মৌসুমে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ ফল উৎপাদিত হয় জানিয়ে তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা সীমিত থাকায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ফল বিক্রির আগেই নষ্ট হয়ে যায়। এ ক্ষতি কমাতে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি, ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি- এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে গুরুত্ব দিতে হবে।
ড. জাহাঙ্গীর বলেন, দেশে বিক্রয়োত্তর পর্যায়ে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ, অনেক ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ফল নষ্ট হয়। যদি প্রক্রিয়াজাত শিল্পে সরকার বিনিয়োগ বা ভর্তুকি দেয়, তাহলে হাজার হাজার কোটি টাকার ফল নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করা সম্ভব।
গোলটেবিল বৈঠকে আলোচকরা
ফলচাষিদের জন্য বিশেষ সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, উৎপাদন পর্যায়েই অনেক ফল নষ্ট হচ্ছে। তাই সাধারণ কৃষি সহায়তার পাশাপাশি ফলচাষিদের জন্য আলাদা নীতিগত সহায়তা ও প্রণোদনা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, গত ১৫ থেকে ২০ বছরে জাতীয় বাজেট বাড়লেও সেই অনুপাতে কৃষিখাতের বরাদ্দ বাড়েনি। বরং মোট বাজেটে কৃষির অংশ ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ২০১১-১২ অর্থবছরে মোট বাজেটের ১০ দশমিক ৬ শতাংশ কৃষি খাতে বরাদ্দ থাকলেও বর্তমানে তা প্রায় ৫ শতাংশে নেমে এসেছে।
আরও পড়ুন
বুড়িগঙ্গার তীরে ফলের সাম্রাজ্য
একইভাবে কৃষি ভর্তুকিও কমেছে। ফলে ফল উৎপাদন, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত শিল্পে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করেন এই কৃষি অর্থনীতিবিদ।
তার মতে, হর্টিকালচার বা উদ্যানতত্ত্ব খাত গত দুই দশকে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। তাই এ খাতের জন্য আলাদা বাজেট ও বিশেষ নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন।
গোলটেবিল বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন জাগো নিউজের সম্পাদক কে. এম. জিয়াউল হক। এসময় উপস্থিত থেকে আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের পোস্ট হারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. গোলাম ফেরদৌস চৌধুরী, বছরব্যাপী ফল উৎপাদন প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প পরিচালক ও ফল বিশেষজ্ঞ ড. মো. মেহেদী মাসুদ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান, বিএসটিআইয়ের উপপরিচালক (খাদ্য ও কৃষি) এনামুল হক, প্রাণ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ইলিয়াছ মৃধা, হাসেম ফুডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবুল হাসেম, বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. ইকতাদুল হক, ক্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, কাজু অ্যান্ড কফি অ্যাগ্রোর নির্বাহী পরিচালক মো. মাহাতাব আলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষি উদ্যোক্তা ইসমাইল খান শামীম ও নওগাঁর কৃষি উদ্যোক্তা সোহেল রানা।
ইএইচটি/এএসএ/ এমএফএ








