আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ থেকে সরকার শূন্য হাতে ফিরে আসেনি বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, সরকার আইএমএফ থেকে শূন্য হাতে ফেরেনি। বরং ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে গৃহীত প্রোগ্রামের কিছু কিছু শর্ত দেশ ও জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে না হওয়ায় আমরা সেসব প্রোগ্রাম থেকে নিজেরাই বেরিয়ে এসেছি। আমরা দেশ ও জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় রেখে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনাক্রমে নতুন প্রোগ্রাম গ্রহণ করবো।
সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর দেওয়া সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি মালয়েশিয়া এবং চীন সফর করে এসেছেন। আমি মনে করি তার এ সফর দেশে বিনিয়োগ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও ম্যানুফেকচারিং দক্ষতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এ ধরনের পার্টনারশিপ সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমাদের আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।
আরও পড়ুন
সংসদে অর্থমন্ত্রী / এনবিআর প্রথমবার ৪ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব আয়ের মাইলস্টোন অতিক্রম করেছে
তিনি বলেন, আমাদের সরকারের অন্যতম প্রধান নীতি সংস্কার হচ্ছে বিনিয়ন্ত্রণকরণ। এ নীতির মূল লক্ষ্য হচ্ছে- অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক জটিলতা দূর করা, ব্যবসার ব্যয় কমানো এবং রাষ্ট্রকে অনুমোদননির্ভর কাঠামো থেকে সেবানির্ভর কাঠামোয় রূপান্তর করা। আমাদের লক্ষ্য হলো- রাষ্ট্র যেন বিনিয়োগের প্রতিবন্ধক নয়, বরং সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে।
তিনি আরও বলেন, আমরা দেশীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। সে কারণে আমরা শিল্পায়ন, রপ্তানিমুখী উৎপাদন, প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণ, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, উদ্ভাবনী উদ্যোক্তা তৈরি এবং ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির সম্প্রসারণে সমন্বিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, প্রতিটি সেবা প্রদানের সময়সীমা সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে, যেন উদ্যোক্তাদের অনিশ্চয়তার মধ্যে অপেক্ষা করতে না হয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর আমরা উপলব্ধি করি যে জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকি ও মানসম্পন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের অনিশ্চয়তা আমাদের শিল্প উৎপাদনসহ অর্থনীতির সব ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করছে।
এ অবস্থা থেকে উত্তরণে আমরা স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি—যার অন্যতম হলো জ্বালানির উৎসসমূহকে বহুমুখীকরণ, এলএনজি টার্মিনালের সংখ্যা বৃদ্ধি, বাপেক্সকে শক্তিশালীকরণ, দেশীয় গ্যাস উত্তোলন জোরদারে আন্তর্জাতিক টেন্ডার আহ্বান, তেল পরিশোধনে সক্ষমতা বাড়াতে দ্বিতীয় ইস্টার্ন রিফাইনারি স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ, ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এই উদ্যোগসমূহ বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট সময়ের প্রয়োজন হয়। তাই, আমরা জনগণকে একটু ধৈর্যশীল হওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।
আরও পড়ুন
সংসদে প্রধানমন্ত্রী / পুঁজিবাজারে কারসাজি করে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে, অনেকে আত্মহত্যা করেছেন
মন্ত্রী আরও বলেন, একটি অধিক উৎপাদনশীল, প্রতিযোগিতামূলক এবং কর্মসংস্থানমুখী অর্থনীতি গড়ে তোলা আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। আমরা চাই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রতিটি ধাপ নতুন কর্মসংস্থানে রূপান্তরিত হোক। শিল্প, সেবা, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষিভিত্তিক শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ এবং ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি খাতে যেসব কর্মপরিকল্পনা ও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে- আমরা মনে করি তাতে কর্মসংস্থানের ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, শ্রমবাজারের চাহিদাভিত্তিক কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ, তরুণ উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন সহায়তা এবং নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানো হবে। আমরা এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তুলতে চাই, যেখানে তরুণদের প্রধান শক্তি হবে তাদের মেধা, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা; যেখানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে প্রবৃদ্ধির স্বাভাবিক ফলাফল হিসেবে।
এমওএস/এমকেআর








