নুরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, সুইডেন
সুইডেনের ঐতিহ্যবাহী লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনব্যাপী শিক্ষা সফরে অংশ নিয়েছে মালমোতে বাংলাদেশিদের দ্বারা পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আহাদ স্কুলের শিক্ষার্থীরা।
গ্রীষ্মকালীন ছুটিকে ঘিরে আয়োজিত এই সফরে শিশুদের জন্য শিক্ষা, প্রকৃতি ও বিনোদনের সমন্বয়ে তৈরি করা হয় ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন।
স্থানীয় সময় রোববার (৫ জুলাই) সকাল থেকে শুরু হওয়া এ শিক্ষা সফরে অংশ নেন স্কুলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা। লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে সকালের নাস্তার মাধ্যমে দিনের কার্যক্রম শুরু হয়।
পরে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন একাডেমিক ভবন, ঐতিহাসিক স্থাপনা, জাদুঘর ও সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস, গবেষণার ঐতিহ্য এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে শিশুদের সহজ ভাষায় ধারণা দেওয়া হয়।

সফরের অন্যতম আকর্ষণ ছিল লুন্ডের বিখ্যাত বোটানিক্যাল গার্ডেন। সেখানে বিভিন্ন দেশের বিরল ও বৈচিত্র্যময় উদ্ভিদ সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ পায় শিক্ষার্থীরা। দুপুরে গার্ডেনের মনোরম পরিবেশে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের অংশগ্রহণে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়।
এরপর ট্রামে করে অংশগ্রহণকারীরা লুন্ড শহরের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখেন। ইউরোপীয় স্থাপত্য, নগর পরিকল্পনা এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগও পায় শিশুরা।
আহাদ স্কুলের অধ্যক্ষ খোরশেদ আলম রনি বলেন, বইয়ের পাঠের পাশাপাশি বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শিশুদের জ্ঞানচর্চা, পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা এবং বিশ্বদৃষ্টিকে সমৃদ্ধ করাই এ ধরনের শিক্ষা সফরের মূল উদ্দেশ্য।

বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজারো শিক্ষার্থী ও গবেষককে আকর্ষণ করে।
আয়োজকরা জানান, এমন পরিবেশে শিশুদের নিয়ে আসা তাদের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার প্রতি আগ্রহ তৈরি করতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জানান, শ্রেণিকক্ষের বাইরের এমন শিক্ষা সফর শিশুদের কৌতূহল, আত্মবিশ্বাস, সামাজিক বন্ধন এবং নতুন পরিবেশ সম্পর্কে জানার আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
দিনব্যাপী এই শিক্ষা সফর বিকেলে শেষ হলেও অংশগ্রহণকারী শিশুদের জন্য এটি আনন্দ, শিক্ষা ও নতুন অভিজ্ঞতার একটি স্মরণীয় দিন হয়ে থাকে। প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত করতে আহাদ স্কুলের এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এমআরএম








