সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ বনদস্যু ‘দুলাভাই’ বাহিনীর সঙ্গে কোস্টগার্ডের ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে এক দস্যু নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আটক হয়েছেন বাহিনীর প্রধান রবিউল ইসলামসহ দুই দস্যু।
শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
আটক রবিউল ইসলাম (৫০) ও নিহত শওকত সরদার (৫৫) খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার বাসিন্দা। অপর আটক ইসরাফিল হাওলাদার (২৬) সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার বাসিন্দা।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, সুন্দরবনের গহিন অরণ্যে ‘দুলাভাই’ বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেল থেকে টানা দুই দিন সুন্দরবনে বিশেষ অভিযান চালায় কোস্টগার্ডের কয়েকটি দল।
অভিযান চলাকালে দস্যুদের ব্যবহৃত দুটি ট্রলারকে থামানোর সংকেত দেওয়া হলে তারা তা অমান্য করে কোস্টগার্ড সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে কোস্টগার্ডও পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির সময় দস্যুদের একটি ট্রলারে আগুন ধরে যায় এবং অপরটি ডুবে যায়।
এতে আরও বলা হয়, পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ‘দুলাভাই’ বাহিনীর প্রধান রবিউল ইসলাম ও তার সহযোগী শওকত সরদারকে উদ্ধার করা হয়। তাদের দ্রুত খুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক শওকত সরদারকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রবিউল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে অভিযান চলাকালে পালিয়ে যাওয়া অন্য দস্যুদের ধরতে কোস্টগার্ড ও পুলিশের যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পুলিশ ফাঁড়ির সামনে স্থানীয়দের সহায়তায় পরিচালিত অভিযানে হাতের আঙুলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ইসরাফিল হাওলাদারকে আটক করা হয়। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এ ছাড়া আরশিবসা নদীর বেসুখাল এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ৬টি একনালা বন্দুক, ৬৯ রাউন্ড তাজা গুলি, ৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি, ১টি দেশীয় অস্ত্র, ১টি মোবাইল ও ১টি হাতঘড়ি উদ্ধার করা হয়।
আটককৃত দস্যু ও উদ্ধারকৃত অস্ত্র-গোলাবারুদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কয়রা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
আবু হোসাইন সুমন/কেএইচকে/এমএস








