গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় তিস্তা নদীতে স্মরণকালের ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভোরের পাখি এলাকাসহ বিভিন্ন চরের অন্তত ৫০টি বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আরও অসংখ্য স্থাপনা।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেল থেকে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। রাতভর ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ও আসবাব নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে ব্যস্ত সময় পার করেছেন। তিস্তার পানি বাড়তে থাকায় নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হয়ে পড়েছে, ফলে ভাঙনকবলিত মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তবে এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো কর্মকর্তা এলাকা পরিদর্শনে আসেননি বলে ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভোরের পাখি চরে অর্ধশতাধিক বসতভিটা ছাড়াও একটি স্কুল, মসজিদ এবং প্রায় চার শ একর ফসলি জমি নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে আরও পাঁচ শতাধিক বসতভিটা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। শুধু কাপাসিয়া নয়, হরিপুর, বেলকা, চণ্ডীপুর ও শ্রীপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন চরেও ভাঙন তীব্র হয়েছে।কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. মঞ্জু মিয়া বলেন, ‘২৪ ঘণ্টায় আমার ইউনিয়নের ৫০টি বসতভিটা ও হাজারো গাছপালা নদীতে চলে গেছে। আমি নিজে রাতভর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে ছিলাম। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জিও ব্যাগ বা জিও টিউব কোনো কাজে আসছে না। নদী খনন ও ড্রেজিং ছাড়া এই ভাঙন রোধ করা সম্ভব নয়।’কছিম বাজার উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল হক বলেন, তিস্তা তার গতিপথ পরিবর্তন করায় অসংখ্য শাখা নদীর সৃষ্টি হয়েছে। ফলে অসময়েও নদী ভাঙছে। স্থায়ী সমাধান ছাড়া চরের মানুষের দুঃখ ঘুচবে না।গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, নদীভাঙন দেখা দিলে জিও ব্যাগ ফেলা এবং ওপরের মহলে তথ্য জানানো ছাড়া তাৎক্ষণিক আর কিছু করার নেই। তিস্তার ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থার জন্য বড় প্রকল্প প্রয়োজন।উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মশিয়ার রহমান জানান, স্থানীয় চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে সহায়তা দেওয়া হবে।\