একসময় ছিলেন ক্রিকেটার। এখন তিনি সফল কৃষি উদ্যোক্তা। তার সাফল্যের নাম আনারকলি। টক স্বাদের এই ফল বিক্রি করেই জুনে লাখ টাকা আয় করেছেন ঝিনাইদহের মহেশপুরের মাহমুদুল হাসান স্টালিন। বছর শেষে ১২-১৩ লাখ টাকা আয় হবে বলে আশা করছেন এই কৃষি উদ্যোক্তা।
আনারকলি বাংলাদেশে স্বল্প পরিচিত ফল। এটি বহুবর্ষজীবী লতা জাতীয় উদ্ভিদ। অনেকের কাছে এটি ট্যাং ফল নামে পরিচিত। এর ইংরেজি নাম Passion fruit এবং বৈজ্ঞানিক নাম Passiflora edulis। আগে কেবল পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ে চাষ হতো। এবার এই ফলের বাণিজ্যিক চাষ সফলভাবে করে দেখালেন স্টালিন। তার বাড়ি ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পান্তাপাড়া ইউনিয়নের ঘুগরী গ্রামে।
স্টালিন যুগান্তরকে বলেন, সাড়ে তিন বছর আগে যশোরের একটি নার্সারি থেকে ৫টি চারা এনে রোপণ করি। খুব দ্রুত গাছ বড় হয় এবং এতে ফল আসে।
তিনি জানান, ইউটিউবে আনারকলির চাষ পদ্ধতি দেখে এর প্রতি আরও আগ্রহী হন। প্রথমে ৫ শতক জমিতে আবাদ করেন। এখন প্রায় সাড়ে পাঁচ বিঘা জমিতে আনারকরি চাষ করছেন। এর মধ্যে সাড়ে তিন বিঘা জমির ফল পাচ্ছেন। বাকি জমির গাছ এখনও ছোট। সবমিলিয়ে মাঠে গাছের সংখ্যা ৭ শতাধিক।
স্টালিন আরও জানান, ২০১৮ সাল থেকেই তিনি বিভিন্ন ফলের চাষাবাদ করছেন। বর্তমানে প্রায় ২৫ বিঘা জমিতে নানা ধরনের ফল রয়েছে। আনারকলি ছাড়া অন্য ফলের মধ্যে রয়েছে-ড্রাগন, মাল্টা, বড়ই, পেয়ারা, বাদাম, কমলা ইত্যাদি।
এই কৃষি উদ্যোক্তা বলেন, তিনি আনারকলি চাষে প্রথমদিকে তেমন কোনো রাসায়নিক সার ব্যবহার করেননি। শুধু জৈব সার প্রয়োগ করে মাটি প্রস্তুত করেন। এরপর ১০ ফুট বাই ১০ ফুট দূরত্বে এর চারা রোপণ করেন। বাগানে যাতে গবাদিপশু না ঢুকতে পারে, সে কারণে বেড়া দিতে হয়। এছাড়া লতাজাতীয় গাছ হওয়ায় প্রধান খরচ হয় এর মাচা তৈরিতে। শুরুতে বিঘাপ্রতি জমি তৈরি ও চারা বাবদ খরচ সর্বোচ্চ ৮০ হাজার টাকা। গাছে ফুল আসার পর ফল আহরণে সময় লাগে প্রায় ৪৫ দিন। সারা বছরই পাওয়া যায় এই ফল।
স্টালিন বলেন, স্থানীয় বাজার ছাড়াও অনেকে খেত থেকে ফল নিয়ে যায়। এছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রামে রয়েছেন তিনজন পাইকার। তাদের অর্ডার অনুযায়ী কার্টনে ভরে সেখানে পাঠাই। তিনি সাধারণত পিস হিসাবে আনারকলি বিক্রি করেন। প্রতি পিস ২০-২৫ টাকা। এছাড়া অনারকলির চারা বিক্রি করেন একশ টাকা করে।
ঝিনাইদহ কেসি কলেজ থেকে স্নাতক স্টালিন একসময় ক্রিকেটার ছিলেন। এখন তিনি বয়সভিত্তিক কোচের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বলেন, বিএ পাস করার পরপরই ফলচাষে ঝুঁকে যাই। চাকরি-বাকরি ভালো লাগতো না। স্বাধীন পেশা, আয়ও ভালো। এখন সব ধরনের ফল মিলিয়ে বছরে প্রায় ৪০ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব। সারা বছর আমার ফলের খেতে কাজ করে গড়ে ৫ জন শ্রমিক। তাদের মজুরি বাবদ মাসে খরচ ৫০ হাজার টাকা।
মহেশপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন সুলতানা বলেন, মহেশপুরে স্টালিন ছাড়াও ফতেপুর উনিয়নের যুগীহুদা গ্রামে রাজেদুল ইসলাম রাজন নামে আরও একজন আনারকলি চাষ করেন। আমরা তাদের খেত পরিদর্শন করেছি। কৃষি অফিস মূলত তাদের টেকনিক্যাল সাপোর্ট দিয়ে থাকে।








