জয়পুরহাটের কালাইয়ে তালোড়া বাইগুনি খাল পুনঃখননে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের কোথাও কোথাও কিছু কাজ করা হয়েছে। কোথাও আবার কোনো কাজই করা হয়নি। এ ছাড়া শ্রমিকের তালিকায় প্রকল্পের সভাপতির স্বজন ও বিত্তবানদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে এখনো খালের পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ কৃষকেরা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) অফিস সূত্রে জানা যায়, তালোড়া বাইগুনি খাল পুনঃখনন কাজের মোট দৈর্ঘ্য ২ হাজার ১০০ মিটার। এ কাজ চলতি বছরের ১৩ মে শুরু হয়। শেষ করার সময়সীমা ছিল ২৯ জুন।

শিডিউল অনুযায়ী, খালের উপরিতলের (মুখের) দৈর্ঘ্য হওয়ার কথা ২০ ফুট (গ্রামের ভেতরের অংশে কোথাও কোথাও ১৫ ফুট)। খালের তলদেশের প্রস্থ হওয়ার কথা ৮ ফুট এবং গভীরতা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ ফুট।

সরেজমিন দেখা গেছে, অল্প কিছু জায়গায় খালের ওপরের অংশের দৈর্ঘ্য ২০ ফুট। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই মাপ ২০ ফুটের চেয়ে অনেক কম—কোথাও ১৯ ফুট, কোথাও ১৮ ফুট, আবার কোথাও তা নেমে এসেছে ১৫ থেকে ১৭ ফুটে।

খালের তলদেশের প্রস্থ ৮ ফুট হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা ৬ ফুটের বেশি মিলছে না। খালের গভীরতা অধিকাংশ জায়গায় ৫ ফুট রাখা হলেও খালের প্রায় ৫০০ মিটার অংশে খননের কোনো কাজই করা হয়নি। এমনকি দীর্ঘ পথ কচুরিপানায় ছেয়ে আছে, যা পরিষ্কার না করায় খালের পানি নিষ্কাশন পুরোপুরি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

অপরদিকে খাল খনন প্রকল্পে প্রকৃত দুস্থ ও কর্মহীন মানুষের কর্মসংস্থানের স্পষ্ট বিধান থাকলেও তালোড়া বাইগুনিতে ঘটেছে সম্পূর্ণ বিপরীত ঘটনা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শ্রমিক জানান, এই খাল খননের জন্য ১২৫ জনের যে সরকারি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে, তাতে অনেক বিত্তবান লোকের নাম রয়েছে। প্রভাব খাটিয়ে তালিকায় স্থান করে দেওয়া হয়েছে প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য আমজাদ হোসেনের আত্মীয়স্বজনদের।

শ্রমিকদের অভিযোগ, আমজাদ হোসেনের যেসব স্বজনদের নাম তালিকায় আছে, তাঁদের অনেকেরই ১০ থেকে ২০ বিঘা পর্যন্ত আবাদি জমি রয়েছে। তাঁরা মাঠে কোনো দিন কাজ করেননি, আর সচ্ছল হওয়ায় কাজ করার প্রয়োজনও নেই। অথচ তাঁদের নাম ব্যবহার করে নিয়মিত সরকারি টাকা তুলে নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রকল্প সভাপতি ও ইউপি সদস্য আমজাদ। কাজ শিডিউলের চেয়েও বেশি হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমার খাল কাটা হান্ড্রেড টোয়েন্টি পার্সেন্ট (১২০ শতাংশ) হয়েছে। যাঁরা বলেছেন খাল খনন সঠিক হয়নি, তাঁরা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলেছেন। আমাকে হয়রানি করার জন্য এসব বলা হচ্ছে।’ ইউপি সদস্য আমজাদ বলেন, খালের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা—সব ঠিক আছে।

জানতে চাইলে পিআইও হাসিবুল ইসলাম বলেন, ‘জুন মাস শেষ হয়েছে, কিন্তু ওই খালের পুনঃখনন পুরোপুরি শেষ হয়নি। অনেক অংশে সঠিকভাবে খাল খনন করা হয়নি। আমরা যেখানে যেভাবে পরিমাপ বা মাপ পেয়েছি, ঠিক সে অনুযায়ীই বিল পরিশোধ করব। আর ওই খালের যে অংশটুকু এখনো খনন করা হয়নি, সেগুলো আগামী অর্থবছরে পুনঃখনন করা হবে।’

হাসিবুল ইসলাম আরও বলেন, বিত্তবানদের নামে টাকা তোলার বিষয়টি এবার কড়াকড়িভাবে খতিয়ে দেখা হবে।