সরকারি খামারের গরুর খাবারের সঙ্গে পোলট্রি মুরগির খাবারের উপাদান দেওয়ার শর্ত দিয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর (ডিএলএস)। সালমোনিলা কিলার (ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধী ওষুধ) নামের এই উপাদান দেওয়ার শর্ত রয়েছে বগুড়া ডেইরি খামারের গোখাদ্যের দরপত্রে।
অভিযোগ উঠেছে, বিশেষ প্রতিষ্ঠানকে দরপত্র পাইয়ে দিতে এমন শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। দরপত্রের এই শর্ত সংশোধনের অনুরোধ জানিয়ে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরে চিঠিও দিয়েছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সূত্র জানায়, বগুড়া ডেইরি খামারে গোখাদ্যের সঙ্গে সালমোনিলা কিলার দেওয়ার শর্তযুক্ত এই দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে গত ৩ জুন। প্রায় চার কোটি টাকার গবাদিপশুর খাদ্য সরবরাহের এই দরপত্রে অংশ নিয়েছে ছয়টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। দরপত্রগুলো বর্তমানে মূল্যায়ন পর্যায়ে রয়েছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, দরপত্রের শর্তগুলো তৈরি করেন খামারের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা। দরপত্রগুলো মূল্যায়ন পর্যায়ে থাকায় এখন কিছু করার সুযোগ নেই।
বর্তমানে বগুড়া দুগ্ধ ও গবাদিপশু উন্নয়ন খামারের উপপরিচালকের দায়িত্বে থাকা সুব্রত কুমার সরকার এ বিষয়ে আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সালমোনিলা ব্যাকটেরিয়া খামারে থাকতে পারে। তাই সন্দেহ থেকে দরপত্রের শর্তে এই উপাদান দিয়েছি। এই ওষুধ খাবারে দেওয়া যাবে নাট—এমন তথ্য গোখাদ্য বিধিমালায় নেই।’
সম্প্রতি মেসার্স শিখা ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লিখিত আবেদনে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের দরপত্রের এই ‘অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক শর্ত’ সংশোধনের অনুরোধ জানিয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির আরও অভিযোগ, বগুড়া ডেইরি খামারের দরপত্রে গবাদিপশুর খাদ্যে ব্যবহৃত ভিটামিন প্রিমিক্সে ভিটামিন ‘এ’-এর মাত্রা ৫২,০০,০০০ আইইউ/কেজি, ফরিদপুর ডেইরি খামারের দরপত্রে ভিটামিন ‘এ’-এর মাত্রা ৫৫,০০,০০০ আইইউ/কেজি এবং বরিশাল ডেইরি খামারের দরপত্রে ভিটামিন ‘এ’-এ মাত্রা ৮০,০০,০০০ আইইউ/কেজি চাওয়া হয়েছে। অথচ দেশের সুপ্রতিষ্ঠিত কোম্পানি; যেমন এসিআই, রেনাটা, স্কয়ারের বাজারজাত করা ভিটামিন প্রিমিক্সে সাধারণত সর্বোচ্চ প্রায় ৮,০০,০০০ আইইউ/কেজি ভিটামিন ‘এ’ থাকে। ফলে দরপত্রে উল্লেখিত শর্ত বাজারে বিদ্যমান অধিকাংশ পণ্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্য; যা বাস্তবসম্মতও নয়।
মেসার্স শিখা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী বিমল চন্দ্র মণ্ডল আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘টেন্ডারের বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে অন্তত পাঁচটি লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি। কোনো ব্যবস্থা তো নেয়ইনি, উল্টো প্রাণিসম্পদের শীর্ষস্থানীয় কর্তারা আমার ওপর নাখোশ হয়েছেন। ঠিকাদারি কাজ করতে দেবে না বলে হুমকি দিচ্ছেন। একই সঙ্গে আমাকে নানা রাজনৈতিক ট্যাগ দিচ্ছেন।’
অধিদপ্তরের পরিচালক (উৎপাদন) ডা. মো. মাহফুজার রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘টেন্ডারের শর্তে অসংলগ্ন কিছু না দিতে আমরা চিঠি দিয়েছি।’ তবে তিনি জানান, অভিযোগ ওঠা দরপত্রগুলো মূল্যায়ন পর্যায়ে থাকায় কিছু করার সুযোগ নেই।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিন্ডিকেট করে সব নিয়ন্ত্রণ করত। আমরা সেটা ভাঙার চেষ্টা করছি।’








