টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে খুলনা নগরীর তেলিগাতীতে কুয়েটসংলগ্ন সড়কে অবস্থিত চারটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। দুদিনের সাপ্তাহিক ছুটির পর গতকাল রোববার খুলেছে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (এইচএসটিটিআই), সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, খুলনা মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও গভঃ ল্যাবরেটরি হাইস্কুল। কিন্তু ভবনগুলোর সামনের অংশে এখনো পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক কার্যক্রম হয়নি আজকে পর্যন্ত।
জলাবদ্ধতার কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীবিহীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে এসে ফিরে যাচ্ছেন শিক্ষার্থী ও প্রশিক্ষণার্থীরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, তেলিগাতী, খানাবাড়ি, বণিকপাড়া, মহেশ্বরপাশাসহ এলাকার পানিপ্রবাহের শেষ গন্তব্য গভঃ ল্যাবরেটরি হাইস্কুল ও এইচএসটিটিআইয়ের মধ্যবর্তী ড্রেন। সেখান থেকে ঠিকভাবে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে প্রতিষ্ঠানগুলো পানিতে তলিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান, কয়েক বছর আগে প্রতিষ্ঠানগুলোর উত্তর সীমানা বরাবর কুয়েটের সম্প্রসারিত ক্যাম্পাস বালু দিয়ে ভরাট করে উঁচু করার পর থেকে ওই ড্রেন দিয়ে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এইচএসটিটিআইয়ের পরিচালক প্রফেসর ড. শেখ আমানুল্যাহ বলেন, ভারী বর্ষণে ভবনের নিচতলার ফ্লোরে দুই থেকে তিন ফুট পানি জমেছিল। ফ্লোরের পানি সরে গেলেও ভবনের সামনে পানি জমে আছে। এতে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
আমানুল্যাহ আরও বলেন, খুলনা বিভাগের ১০ জেলা থেকে আগত প্রশিক্ষণার্থীরা প্রশিক্ষণ নিতে পারছেন না। পানি জমে থাকায় ভবনটিও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ড্রেন দিয়ে সঠিকভাবে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় প্রতিবছর দুর্ভোগ পোহাতে হয়। দুরবস্থা নিরসনে তিনি যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর বিপ্লব রহমান বলেন, ভবনের নিচতলায় তিন থেকে চার ফুট পানি জমেছিল। সামনে কোমরসমান পানি। স্টুডেন্ট যারা আছে, পানি দেখে ফিরে গেছে। প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। আজ কার্যক্রম হয়েছে, তবে খুবই শিথিল।
প্রফেসর বিপ্লব রহমান আরও বলেন, পাঁচ বছর ধরে একই অবস্থা চলছে। সমস্যার সমাধান করতে হলে মাটি দিয়ে দুই-তিন হাত উঁচু করতে হবে।
খুলনা মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মির্জা ফিরোজ হাসান বলেন, প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের রাস্তায় পানি জমে থাকায় কার্যক্রম অচল হয়ে পড়েছে। প্রশিক্ষণার্থীরা পানি দেখে ফিরে গেছেন। পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়।
গভঃ ল্যাবরেটরি হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আবু হানিফ জানান, প্রতিষ্ঠানের তিনতলা ও দোতলা ভবনের নিচতলার ফ্লোরসহ তাঁর অফিসের কক্ষ তলিয়ে গিয়েছিল। গতকাল রোববার দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও পানি সরে যাওয়ায় পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
মো. আবু হানিফ বলেন, তেলিগাতী, খানাবাড়ি, মহেশ্বরপাশাসহ দক্ষিণ দিকের পানির প্রবাহের শেষ গন্তব্য এই এলাকা। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এসব অঞ্চলের সেপটিক ট্যাংকের নর্দমার পানিও প্রতিষ্ঠানে ঢুকে যায়। তাঁর ভাষ্য, প্রতিষ্ঠানের উত্তর পাশে কুয়েটের সম্প্রসারিত ক্যাম্পাস বালু দিয়ে ভরাট করে উঁচু করার পর থেকে এই অঞ্চলের পানি ঠিকভাবে বিলে যেতে না পারায় সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, খুলনা মহানগরীর কয়েকটি স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। নগরীর ছয়টি এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
মঞ্জু বলেন, আপাতত যথাসময়ে স্লুইসগেট বন্ধ ও খোলা, ড্রেনেজ নেটওয়ার্কের প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে অপসারণ, বক্স কালভার্ট জেট মেশিনের মাধ্যমে পরিষ্কারকরণ এবং এক্সকাভেটর, ট্রাকসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঞ্জু আরও বলেন, ‘জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের কাজ শেষ হলে নগরীর মোট ড্রেনেজ নেটওয়ার্কের ২৫ শতাংশ সম্পন্ন হবে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যে তিনটি পাম্পহাউস নির্মাণ, ড্রেন পরিষ্কারের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয় ও জোয়ারের পানি প্রবেশ বন্ধে বৈদ্যুতিক স্লুইসগেট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।








