জুনে ইউরোপে রেকর্ড সৃষ্টিকারী তাপপ্রবাহের শেষ সপ্তাহে ফ্রান্সে মৃতের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়েছে। শুক্রবার বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।

এদিকে আবহাওয়াবিদরা আগামী কয়েকদিনে মহাদেশটিতে আরো চরম তাপমাত্রার বিষয়ে সতর্ক করেছেন।

ফ্রান্সে ২২ থেকে ২৮ জুনের মধ্যে নথিভুক্ত মৃত্যুর সংখ্যা ২ হাজার ২৫ জন বেড়েছে, যা প্রায় ৩০ শতাংশ। শুক্রবার দেশটির জনস্বাস্থ্য সংস্থা এই ঘোষণা দিয়েছে। শুধু প্যারিস অঞ্চলেই মৃত্যু ৬২ শতাংশ বেড়েছে।

ফরাসি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সংখ্যাটি সম্ভবত প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে কম এবং প্রকৃত মৃত্যুহার এই প্রাথমিক পরিসংখ্যানের চেয়ে বেশি হবে।

ফরাসি স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্টেফানি রিস্ট জানিয়েছেন, জুনের শেষ সপ্তাহে মৃতের সংখ্যা তার আগের সপ্তাহের তুলনায় ২৯ শতাংশ বেড়েছে। ৪৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যায় একটি ‘স্পষ্ট বৃদ্ধি’ ঘটেছে।

২৪ জুন ফ্রান্স দেশজুড়ে গড়ে এই যাবৎকালের উষ্ণতম দিনটি দেখেছে। ওই দিন প্যারিসে তাপমাত্রা প্রায় ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছিল এবং দেশের অর্ধেক অংশকে রেড হিট অ্যালার্টের আওতায় আনা হয়েছিল।

এই মৃতের সংখ্যার খবর এমন এক সময়ে এসেছে যখন যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন অংশ চলতি সপ্তাহান্ত থেকে আরো তীব্র তাপমাত্রার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।

বিবিসি ওয়েদার জানিয়েছে, বর্তমানে আজোরস থেকে পর্তুগাল ও স্পেনের দিকে একটি বিশাল উচ্চচাপ বলয় তৈরি হচ্ছে এবং সপ্তাহান্তের মধ্যে ফ্রান্স ও দক্ষিণ ব্রিটেনে তাপমাত্রা আরো বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

ইউরোপ যখন তীব্র গরমের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে, তখন মধ্য ও পূর্বাঞ্চলীয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অংশে দীর্ঘস্থায়ী চরম তাপপ্রবাহ ও উচ্চ আর্দ্রতার কারণে ৪ জুলাইয়ের ছুটির সপ্তাহান্ত উদযাপনকারী লাখ লাখ আমেরিকান ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে - বিশেষ করে ইউরোপে। কোপারনিকাস ক্লাইমেট সার্ভিসের মতে, এটি বিশ্বের দ্রুততম উষ্ণায়নকারী মহাদেশ, যা বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে দ্বিগুণ দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে।