মায়ের ওপর গাড়ি তুলে দিয়ে হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগে আগেই গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি। এবার ভারতের রাজস্থান রাজ্যের রাজধানী জয়পুরের সেই আইন বিভাগের ছাত্রীর বিরুদ্ধে নিজের বাবাকেও হত্যার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

অভিযুক্ত তরুণীর নাম আয়ুশি (২৩)। তিনি এলএলবি শেষ বর্ষের ছাত্রী। জয়পুর পুলিশের হেফাজতে থাকা আয়ুশির বিরুদ্ধে এই নতুন অভিযোগটি এনেছেন তাঁরই মামা রাকেশ শর্মা। তাঁর দাবি, গত বছর আয়ুশি তাঁর অসুস্থ বাবার জীবনরক্ষাকারী ‘ফিডিং টিউব’ (খাবারের নল) খুলে নিয়ে তাঁকে হত্যা করেছিলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, মায়ের সরকারি চাকরি ও পারিবারিক সম্পত্তি পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার লোভেই এই হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটানো হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

আয়ুশির বাবা বিজয় শর্মা জয়পুর আদালতের কর্মকর্তা (কোর্ট মাস্টার) ছিলেন। দীর্ঘ অসুস্থতার পর গত বছর তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর অনুকম্পামূলক বা মানবিক বিবেচনায় জয়পুর আদালতেই ক্লার্কের চাকরি পান আয়ুশির মা নীরাজ শর্মা।

আয়ুশির মামা রাকেশ শর্মার অভিযোগ, বিজয় শর্মা স্ট্রোক করার পর আয়ুশি এবং তাঁর চাচাতো ভাই বলরাম তাঁকে একটি অজ্ঞাত হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রায় তিন মাস ধরে তাঁর চিকিৎসার ব্যাপারে পরিবারের অন্য সদস্যদের পুরোপুরি অন্ধকারে রাখা হয়েছিল।

নীরাজ শর্মা বারবার বিজয় শর্মার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে আয়ুশি কেবল একটি বেসরকারি হাসপাতালের নাম জানান। পরবর্তীতে যখন বিজয় শর্মাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়, ততক্ষণে তাঁর একাধিক অঙ্গ বিকল হতে শুরু করেছিল।

রাকেশ শর্মার অভিযোগ, বাড়িতে আনার পর অত্যন্ত গোপনে বিজয় শর্মার মুখের ফিডিং টিউবটি খুলে দেন আয়ুশি, যার ফলেই তাঁর মৃত্যু হয়। জয়পুর পুলিশ জানিয়েছে, তারা এই অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে এবং হেফাজতে থাকা আয়ুশিকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

গত ৩ জুলাই জয়পুরে একটি দ্রুতগতির এসইউভি গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যা করা হয় আদালতের কর্মী নীরাজ শর্মাকে। সে সময় তিনি তাঁর ছোট ছেলেকে একটি কোচিং সেন্টারে নামিয়ে দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, এটি কোনো সাধারণ সড়ক দুর্ঘটনা ছিল না, বরং একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। মায়ের চাকরি ও সম্পত্তি পাওয়ার উদ্দেশ্যে আয়ুশি তাঁর চাচাতো ভাই বলরামের সহযোগিতায় ৭ লাখ টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে খুনি নিয়োগ করেছিলেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এর এক মাস আগেও নীরজ শর্মাকে একইভাবে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে রাস্তায় অতিরিক্ত যানজটের কারণে সেবার ভাড়াটে খুনিরা সফল হতে পারেনি।

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, আয়ুশি তাঁর চাচা মোহন এবং চাচাতো ভাই বলরামের সঙ্গে মিলে এই হত্যার নীলনকশা তৈরি করেছিলেন। চুক্তি অনুযায়ী, নীরাজ শর্মাকে হত্যার পর তাঁর জায়গায় সরকারি চাকরি পাবেন আয়ুশি এবং অবশিষ্ট পারিবারিক সম্পত্তি এই তিনজনের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া হবে।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, আয়ুশির সঙ্গে বলরামের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। মায়ের সঙ্গে পারিবারিক কলহের জেরে আয়ুশি কিছুদিন ধরে তাঁর চাচার বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন।

হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ইতিমধ্যেই ভাড়াটে খুনি হেমন্ত, আকাশ, মোহিত, অরবিন্দ ও রোহিতকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে এই ঘটনার অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী বলরাম এখনো পলাতক। পুলিশ তাঁকে খুঁজছে।