দুই বছর চুটিয়ে প্রেম করার পর বাগদান সারেন মার্কিন গায়িকা টেইলর সুইফট ও কানসাস সিটি চিফসের খেলোয়াড় ট্র্যাভিস কেলসে। গত ৩ জুলাই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এই প্রেমিক যুগল। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইর্য়ক সিটির ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে বসেছিল তাদের বিয়ের আসর।

মজার ব্যাপার হলো—বিয়ের অনুষ্ঠানস্থল ও ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের আশেপাশের রাস্তা থেকে সংগ্রহ করা আবর্জনাও বিক্রি হয়েছে। এসব আবর্জনা সংগ্রহ করে স্বচ্ছ অ্যাক্রিলিক কিউবে ভরে তা টেইলর সুইফটের ভক্তদের কাছে বিক্রি করেছেন নিউ ইয়র্কের শিল্পী জাস্টিন গিগন্যাক।  

সিগারেটের ফিল্টার, বোতলের মুখা, ক্যান্ডির মোড়ক, ব্যবহৃত প্লাস্টিকের কাঁটাচামচ, পরিত্যক্ত এয়ারপড—কিউবের ভেতর ভরে বিক্রি করেছেন জাস্টিন। প্রতিটি কিউব ২৫ মার্কিন ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩ হাজার ৯১ টাকা)। অবাক করার বিষয় হলো, বিক্রি শুরুর ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে সবগুলোই বিক্রি হয়ে গেছে। প্রতিটি স্বচ্ছ কিউবের গায়ে লেখা—‘জাস্টঅ্যান্ডটি ম্যারিড! ৭/৩/২৬’। বিয়ের অনুষ্ঠানের পর ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের বিখ্যাত মাকিতে প্রদর্শিত বার্তারই প্রতিধ্বনি এটি।

২০০১ সালে ‘নিউ ইয়র্ক সিটি গারবেজ’ নামে একটি প্রজেক্টের যাত্রা শুরু করেন জাস্টিস গিগন্যাক। এর মাধ্যমে তিনি দেখাতে চান, কোনো জিনিসের উপস্থাপন বা প্যাকেজিং তার মূল্য সম্পর্কে মানুষের ধারণা কতটা বদলে দিতে পারে। এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩০০টিরও বেশি কিউব বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশে বিক্রি করেছেন তিনি। এর আগে ইয়াঙ্কি স্টেডিয়ামে ওয়ার্ল্ড সিরিজ কিংবা টাইমস স্কয়ারের নববর্ষ উদযাপনের মতো বিশেষ আয়োজনের আবর্জনাও একইভাবে সংগ্রহ করে সীমিত সংস্করণ হিসেবে বিক্রি করেছিলেন এই শিল্পী।

টেইলর সুইফ ও ট্র্যাভিস কেলসের বিয়েকে অনেক ভক্তই ‘দশকের সবচেয়ে আলোচিত সেলিব্রিটি বিয়ে’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সেই আবহ ধরে এই সংগ্রহকে একটি রসিকতাপূর্ণ ‘টাইম ক্যাপসুল’ হিসেবে বাজারজাত করা হয়। এমনকি, পণ্যের বিবরণে টেইলর সুইফটের জনপ্রিয় ‘নিউ ইয়ারস ডে’ গানের বিখ্যাত লাইনটিরও উল্লেখ করেন, যেখানে পার্টি শেষে মেঝেতে পড়ে থাকা আবর্জনার কথা বলা হয়েছে।

টেইলর সুইফট ও ট্র্যাভিস কেলসের বিয়ে ঘিরে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। প্রায় ২ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রায় এক হাজার অতিথি উপস্থিত ছিলেন। অতিথিদের মধ্যে ছিলেন—সেলেনা গোমেজ, এড শিরান, জেনিফার লোপেজ, টম হ্যাঙ্কস, স্টিভেন স্পিলবার্গ, জিমি ফ্যালন, সিমোন বাইলস, কানসাস সিটি চিফসের প্রধান কোচ অ্যান্ডি রিডসহ সংগীত, ক্রীড়া, চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন জগতের অসংখ্য তারকা।

তারকাদের ব্যবহৃত জিনিসপত্র বা তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্মারকের বাজার বহুদিন ধরেই লাভজনক। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীদের স্মারকের দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। তাদের হাতে লেখা গানের লিরিক, মঞ্চে পরা পোশাক, কনসার্টের টিকিট, গিটার কিংবা সাধারণ কোনো ব্যক্তিগত জিনিসও এখন সংগ্রাহকদের কাছে মূল্যবান সম্পদে পরিণত হয়েছে। এখন পর্যন্ত বিক্রি হওয়া সবচেয়ে দামি স্মারকগুলোর একটি হলো—সংগীতশিল্পী এলভিস প্রিসলির ওমেগা হাতঘড়ি, যা নিলামে ১৮ লাখ মার্কিন ডলারেরও বেশি দামে বিক্রি হয়।

*ইয়াহু ডটকম অবলম্বনে