মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার কারণে বিদ্যমান শ্রমবাজারের পাশাপাশি নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর উদ্যোগের পাশাপাশি থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে জনশক্তি রপ্তানি বাড়ানোর জন্য কার্যক্রম চলছে।

তিনি বলেন, থাইল্যান্ডের সঙ্গে কর্মী নিয়োগ-সংক্রান্ত চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া দেশটির সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোকে সংশ্লিষ্ট দেশের শ্রমবাজারের চাহিদা নিরূপণ করে জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদে টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আওয়ালের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকার দেশের সব অঞ্চলে ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন, টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশেষ করে তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

আরও পড়ুন

শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির হোতাদের বিচার হবে: প্রধানমন্ত্রী

তিনি বলেন, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ সেন্টার’ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত তথ্যপ্রাপ্তি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং চাকরির সুযোগ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজার ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক হবে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং শ্রমজীবী মানুষের জীবনমানের উন্নতি ঘটবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারকে সুসংহত করা, সম্প্রসারণ এবং নতুন বিকল্প শ্রমবাজার অনুসন্ধানেও সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

ইউরোপের কয়েকটি দেশের ভিসা সেন্টার বাংলাদেশে খোলা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণে ইউরোপের কয়েকটি দেশের ভিসা সেন্টার বাংলাদেশে চালুর লক্ষ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে বিদেশে বাংলাদেশি কর্মী পাঠাতে বিভিন্ন দেশের চাহিদা অনুযায়ী কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোকে সংশ্লিষ্ট দেশের শ্রমবাজারের চাহিদা নিরূপণ করে জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মালয়েশিয়া, ওমান, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে বন্ধ বা সংকুচিত শ্রমবাজার পুনরায় চালুর লক্ষ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

কাতারের শ্রমমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পেশায় দক্ষ কর্মী নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া নর্থ মেসিডোনিয়া, সার্বিয়া, মরিশাস ও পর্তুগালের মতো যেসব ইউরোপীয় দেশে দক্ষ কর্মী পাঠানোর সুযোগ রয়েছে, সেসব দেশের ভিসা সেন্টার ঢাকায় স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় মৌসুমি কর্মী পাঠাতে দেশটির বিভিন্ন স্থানীয় সরকারের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের কার্যক্রম চলছে। ইতোমধ্যে বোয়েসেলের মাধ্যমে সেখানে মৌসুমি কর্মী পাঠানো শুরু হয়েছে।

জাপানে কর্মসংস্থান বাড়াতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে ‘জাপান সেল’ গঠন করা হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ সেলের আওতায় জাপানে কর্মী পাঠানো ৯৬টি সেন্ডিং অর্গানাইজেশন, ২০০টির বেশি বেসরকারি জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং ৬০টি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি)কে সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) আওতায় চাহিদাভিত্তিক ভাষা প্রশিক্ষণ কোর্স চালু ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশের ৬০টি টিটিসিতে জাপানি, ইংরেজি, চীনা ও কোরিয়ান ভাষার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং এসব প্রতিষ্ঠানে ভাষাশিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

এমওএস/এমএএইচ/