থাইল্যান্ডের পর্যটন নগরী পাতায়ায় স্যুটকেসের ভেতর ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এক অস্ট্রেলীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে থাই পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত কিশোরীর পরিবার গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

থাই পুলিশ জানিয়েছে, ব্যাংককের সুবর্ণভূমি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শনিবার ভোরে চল্লিশোর্ধ্ব অস্ট্রেলীয় নাগরিক সাইমন পিটার কারম্যানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি অস্ট্রেলিয়ায় ফেরার জন্য একটি ফ্লাইটে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কারম্যানের বিরুদ্ধে হত্যা, মরদেহ গোপন করা, মরদেহ সরানো বা ধ্বংসের চেষ্টা এবং যৌন উদ্দেশে একজন অপ্রাপ্তবয়স্ককে সঙ্গে নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখতে পান, কারম্যান ওই কিশোরীকে নিয়ে একটি কনডোমিনিয়ামে প্রবেশ করেন। কয়েক ঘণ্টা পর তিনি একাই ভবন থেকে বেরিয়ে আসেন এবং তাঁর সঙ্গে একটি স্যুটকেস ছিল।

থাই পুলিশের ফেসবুক পোস্টে বলা হয়েছে, পরে কারম্যানের স্যুটকেসটি একটি মোটরসাইকেলে তুলে রেললাইনের পাশের ঘাসে ঢাকা একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখান থেকে মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পর তদন্ত কক্ষে কারম্যান নিহত কিশোরীর পরিবারের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত একটি বার্তা দেন। তিনি বলেন, ‘আপনাদের মেয়ের সঙ্গে যা ঘটেছে, তার জন্য আমি দুঃখিত। বিষয়টি আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল।’

নিহত কিশোরীর বাবা ৪৬ বছর বয়সী থংচাই ডনহোমলা বলেন, মেয়ের মৃত্যুর শোক তিনি এখনো মেনে নিতে পারছেন না। তিনি বলেন, ‘আমি গভীরভাবে মর্মাহত। আমার মেয়ের মা নেই। সে যখনই কোনো কিছু প্রয়োজন মনে করত, নিজেই ব্যবস্থা করার চেষ্টা করত। পাশাপাশি সে আমাকে বিভিন্নভাবে সাহায্যও করত।’

কিশোরীর সৎমা ওরাদী বুসারাকুম অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি পুলিশকে বলেছি, আমি চাই তার মৃত্যুদণ্ড হোক। একজন মা হিসেবে এর বেশি আর কী বলব জানি না। আমি শুধু চাই, সে তার কাজের পূর্ণ পরিণতি ভোগ করুক।’

তবে কারম্যানকে আদালতে কবে হাজির করা হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি থাই পুলিশ।

ঘটনাটি থাইল্যান্ড জুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনের উদ্দেশ্য ও ঘটনার পূর্ণ বিবরণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।