ভারতের উজান থেকে ধেয়ে আসা পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানির তোড়ে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম-আঙ্গরপোতার একমাত্র যোগাযোগের মূল পাকা সড়কটি ধসে গিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবিলায় লালমনিরহাট সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি মেরামতের উদ্যোগ নিলেও তাতে নতুন করে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। জরুরি মেরামতের মালামালবাহী ট্রাক তিন বিঘা করিডোরে বিএসএফ আটকে দেওয়ায় মেরামতের কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে ট্রাকটি  বিজিবি চেকপোস্টে সামনে পড়ে রয়েছেন। এতে করে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রোগী ও সীমান্ত টহলে থাকা বিজিবি সদস্যসহ এলাকার মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। 

বুধবার (৫ আগস্ট) ৬টার দিকে সীমান্ত পেরিয়ে ভারত থেকে হঠাৎ করে প্রবল বেগে বৃষ্টির পানি ও পাহাড়ি ঢল বাংলাদেশে ঢোকে। পানির প্রচণ্ড তোড়ে কৃষকের আবাদি জমি প্লাবিত করে। পানিতে দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ছিটমহলের সিস্টায়ার বাজার এলাকার পাকা সড়কটির বড় অংশ ধসে গিয়ে বিশাল খাদের সৃষ্টি হয়।

এর ফলে সিস্টায়ার বাজারের পার্শ্ববর্তী এলাকার অন্তত দুই হাজার পরিবার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। একইসঙ্গে সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত স্থানীয় বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যদের স্বাভাবিক যাতায়াত এবং সীমান্ত টহল ব্যবস্থা গুরুতরভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পানিতে বিস্তীর্ণ এলাকার সদ্য রোপন করা আমন ধানের ক্ষেত তলিয়ে গিয়ে কৃষকের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

সড়ক ধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর পেয়ে লালমনিরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু সেই প্রচেষ্টায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে তিন বিঘা করিডোরে বিএসএফের অবস্থান।

সড়ক ধসে যাওয়া এবং মেরামত কাজ আটকে থাকায় দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা এলাকার সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। 

পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে এবং বিজিবির টহল ব্যবস্থা সচল রাখতে বিজিবি ও বিএসএফের উচ্চপর্যায়ে ফ্ল্যাগ বৈঠক বা দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান বের করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। 

এ নিয়ে ঘটনাসম্পর্কে লালমনিরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী ওসমান গনি জানান, ট্রাকটি তিন বিঘা করিডোরে পৌঁছালে বিএসএফ সদস্যরা সেটি আটকে দেয় এবং দহগ্রামে প্রবেশে বাধা দেয়। বিএসএফের বাধার মুখে বাধ্য হয়ে ট্রাকটি আটকে থাকে এবং মালামাল দহগ্রাম-আঙ্গরপোতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।