বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে সরকারদলীয় লোকেরা তিস্তা পাড়ে ‘জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাও’ শীর্ষক বৃহৎ আন্দোলন করলেও বর্তমান বাজেটে তিস্তা নিয়ে ১০ টাকাও বরাদ্দ রাখেনি। আমরা সরকারের ভালো ভালো কথার ফুলঝুরি আর শুনতে চাই না। তিস্তা নিয়ে বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চাই। এই সরকার যদি তা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, তবে আগামীতে জনগণের রায়ে ১১ দলীয় ঐক্য জোট ক্ষমতায় গিয়ে তিস্তার এই গণদাবি বাস্তবায়ন করবে।

শনিবার (১১ জুলাই) বিকালে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাবেশে গণভোটের রায় প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়তে ২৪ এর বিপ্লবে সন্তানেরা লড়াই করেছিল। সেই স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে গণভোটেও রায় দিয়েছিল এ দেশের মানুষ। কিন্তু সেই গণভোটের গণরায় নিয়ে সরকার টালবাহানা করছে। এ রায় নিয়ে জাতির সামনে কোনো তামাশা বরদাশত করা হবে না। তাই জনগণের এই রায় বাস্তবায়নের দাবিতে আমরা একচুলও সরব না। রায় বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা হবে বলেও জানান ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি আরও বলেন, উত্তরবঙ্গ কৃষির রাজধানী। কিন্তু কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছে। কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তিনি সরকারের প্রতি দাবি জানান। 

সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সীমান্তে অস্থির পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে প্রতিবেশী দেশ ভারত উসকানি দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সরকার নীরব ভূমিকা পালন করছে। আমরা এবং দেশের জনগণ এর প্রতিবাদ জানিয়ে যাচ্ছি। সীমান্ত এলাকার মানুষ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। কিন্তু সরকার এ বিষয়ে কোনো কথা বলছে না। সরকারের ভূমিকা দেখে মনে হচ্ছে, সরকার কাউকে খুশি করতেই এই নীরব ভূমিকা পালন করছে। জনগণের অভিপ্রায় বা আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে সরকার অবস্থান নিলে এর পরিণতি ভালো হবে না বলেও মন্তব্য করেন জামায়াতের আমির।

তিনি বলেন, বিগত সময়ের গুম-খুনের বিচার এ দেশে করতেই হবে। যদি সেই বিচার করতে এই সরকারের সাহস না থাকে, তবে ব্যর্থতার দায় নিয়ে সরে যাওয়া উচিত। সকল অন্যায়ের প্রতিবাদ ও বিচার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্য জোট লড়াই চালিয়ে যাবে। 

বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজারো কর্মী মাঠে উপস্থিত থাকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২৪-এর বিপ্লবে যেখানে গুলিবৃষ্টি আমাদের দমাতে পারেনি, সেখানে আজকের বৃষ্টি তো কোনো ব্যাপারই না। তিনি বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও নেতাকর্মীদের ধৈর্যশীল উপস্থিতিকে এর বড় প্রমাণ বলে উল্লেখ করেন। 

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ, সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধ এবং জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবিতে আয়োজিত বিভাগীয় মহাসমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন, বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, এবি পার্টির ব্যারিস্টার ফুয়াদ, জাগপার মূখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধানসহ ১১ দলীও ঐক্য জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।