তিস্তা নদীর তীব্র স্রোতে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের গোডাউনের হাট এলাকায় তীররক্ষা বাঁধে বড় ধরনের ধস দেখা দিয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত থেকে শুরু হওয়া এ ধসে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, একটি মসজিদ এবং আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, মসজিদসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। এছাড়া ভাঙনস্থল থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে অবস্থিত শহর রক্ষা বাঁধও এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সেই বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে রংপুর শহরসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।শনিবার (২৫ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ২০ মিটার এলাকাজুড়ে বাঁধের কংক্রিট ব্লক একের পর এক নদীতে ধসে পড়ছে। এতে প্রায় ৬০ মিটার দীর্ঘ বড় একটি গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ধসের কারণে নদীর তীর দ্রুত ভেঙে পড়ছে এবং ঝুঁকির পরিধিও বাড়ছে।গোডাউনের হাট এলাকার বাসিন্দা সেল্টু মিয়া বলেন, “শুক্রবার রাত থেকেই ভাঙন শুরু হয়েছে। প্রায় ২০ মিটার জায়গা নদীতে চলে গেছে। সারারাত আতঙ্কে কাটিয়েছি। শুধু জিওব্যাগ নয়, দ্রুত কংক্রিট ব্লক ফেলতে হবে। না হলে বাঁধ রক্ষা করা কঠিন হবে।”স্থানীয় বাসিন্দা মৌসুমী আক্তার বলেন, “নদী আগেই আমাদের বাপ-দাদার সব জমি নিয়ে গেছে। এখন শুধু বসতভিটাটুকু আছে। গতকাল (শুক্রবার) থেকে বাড়ির পাশেই ভাঙন শুরু হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এটাও নদীতে চলে যাবে। তখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকব জানি না।”ধসের খবর পেয়ে শুক্রবার রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) রংপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম।পরিদর্শন শেষে সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী বলেন, “ধসের খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে এসেছি। ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, মসজিদ ও আশপাশের মানুষের জানমাল রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ইতোমধ্যে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর কাজ শুরু করেছে।”সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী আরও বলেন, “স্থায়ী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও পাউবোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। মানুষের জানমাল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় যা যা করণীয়, সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”পাউবো রংপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, “তীররক্ষা বাঁধ রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগে মাটি ভরে ফেলা হচ্ছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ভাঙন নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপও গ্রহণ করা হবে।”এদিকে, ভাঙন আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। দ্রুত স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
রাজনীতি
তিস্তার তীররক্ষা বাঁধে ধস, হুমকিতে রংপুর শহর

শেয়ার করুন







