সমাহিত করা হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনিকে। ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায় ব্যাপক জনসমাগমের মধ্য দিয়ে মরদেহবাহী শোভাযাত্রার পর বৃহস্পতিবার ইরানের স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে মাশহাদ শহরে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

শেষ বিদায়ে সপ্তাহব্যাপী আয়োজন, বিশাল সব পদযাত্রাা ও শোক পালনের পর এদিন দুপুর আড়াইটার দিকে যখন ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে সমাহিত করার কাজ শুরু হয় তখনও লোকচক্ষুর আড়ালেই ছিলেন তার ছেলে মোজতবা খামেনি।

ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখে আমেরিকা ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর প্রথম দিকেই শহীদ হন ইরানের সর্বোচ্চ এই নেতা। এর প্রায় সাড়ে তিন মাস পর গত মাসে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয় ইরান ও আমেরিকা।

আরও পড়ুন

শেষ বিদায় / খামেনির মরদেহ কারবালা থেকে পবিত্র শহর মাশহাদের পথে

মাশহাদের জনাকীর্ণ সড়কে একটি ট্রাকে করে ধীরে ধীরে খামেনির মরদেহ ইমাম রেজার মাজারের সোনালি গম্বুজ ও মিনারগুলোর দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। রাস্তার দুই পাশেই দেখা যায় সাদা পাগড়ি পরা আলেমদের। তাদের পেছনে কালো পোশাক পরা কান্নারত সাধারণ জনতার হাতে তখন ছিল প্রয়াত নেতার ছবি ও লাল প্ল্যাকার্ডে নানা স্লোগান।

মাশহাদে খামেনির শেষ বিদায়ের আগে উপস্থিত জনতার অনেককেই ‘সর্বোচ্চ নেতার রক্তের কসম, ট্রাম্প, তোমাকে আমরা মারবোই!’ বলে চিৎকার করতে শোনা যায়। অনেক নারীকে দেখা যায় ‘ট্রাম্পকে মারো’ বলে স্লোগান দিতে।

jagonews24.com

দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহরটিতে আয়াতুল্লাহ খামেনির শেষ বিদায়ের আগে ইরাক ও ইরান দুই দেশ মিলিয়ে প্রায় দেড় কোটি লোকের সমাগম হয় বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।

খামেনির মৃত্যুর পর থেকেই মার্চে দেশটির একটি ধর্মীয় কাউন্সিল কর্তৃক সর্বোচ্চ নেতা ঘোষিত মোজতবা খামেনি বর্তমানে কোথায় আছেন সে সম্পর্কে সুস্পষ্ট কোনো তথ্য জানেন না ইরানিরাও। তেহরানের একটি উচ্চ পর্যায়ের সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, হামলায় আহত হওয়ার পর মোজতবা খামেনি এখনও সেরে ওঠার প্রক্রিয়ায় আছেন এবং প্রকাশ্যে আসার মতো সুস্থ তিনি হননি।

এএমএ