দেশের সাধারণ মানুষ ও করদাতাদের (ট্যাক্স পেয়ার) টাকা সব ভবন তৈরির পেছনে চলে যায় বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ২৪তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, দেশের সাধারণ মানুষ ও করদাতাদের টাকা শুধু ভবন নির্মাণে ব্যয় করলে হবে না। ভবনের পাশাপাশি গবেষণা, দক্ষতা ও কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে ফল নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমার একটা ভবন দরকার, আমার ওটা দরকার—খালি ভবন, ভবন, ভবন। এসব ভবনের অর্ধেকেরই কোনো ফল নেই। সুতরাং, হার্ডওয়্যারের সঙ্গে সফটওয়্যারের বিষয়টিও বাস্তবায়ন করতে হবে। দুটো একসঙ্গে করতে হবে। তা না হলে শুধু ভবন করে কোনো লাভ হবে না।’
বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণার প্রসঙ্গ তুলে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘গবেষণার সঙ্গে আপনাদের সমন্বয় হচ্ছে না কেন? এ নিয়ে কাজ করতে হবে।’
শিক্ষা খাতে চলতি বাজেটে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘সরকার এই বাজেটে শিক্ষায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছে—বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ। দক্ষতা উন্নয়ন ও গবেষণার জন্যও বাজেটে বড় অংশ রাখা হয়েছে। তাই এই অর্থ ব্যবহার করতে হবে।’
গবেষণায় বরাদ্দ দেওয়া অর্থ যথাযথভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গবেষণার ক্ষেত্রে কোথায় সমস্যা রয়েছে, পর্যাপ্ত সুবিধা নেই কেন এবং কোথায় সক্ষমতার ঘাটতি আছে, তা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘আমি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলছিলাম। তারা বলেছে, গবেষণায় আগ্রহ আছে, কিন্তু পর্যাপ্ত সুবিধা নেই। কোথায় সমস্যা রয়েছে, তা বের করতে হবে। অনুষদের সমস্যা থাকলে কোথায় ঘাটতি আছে, সেটিও দেখতে হবে।’
চুয়েটে পিএইচডি ডিগ্রিধারী শিক্ষক প্রসঙ্গে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমি শুনলাম, আপনাদের চুয়েটে ৯৫ জন পিএইচডিধারী আছেন। ৯৫ জন পিএইচডি অনেক, কম নয়। কিন্তু কেউ পিএইচডি করে এলে তাঁর যোগ্যতা ও শিক্ষাকে কাজে লাগাতে হবে। কাজে লাগানোর সুযোগ না থাকলে পিএইচডি করে লাভ নেই।’
করদাতাদের টাকার অপচয় মেনে নেওয়া হবে না জানিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী হিসেবে কোনো প্রকল্প পাস করার আগে আমি চারটি বিষয় নিশ্চিত করি। প্রথমত, সেখানে অর্থের যথাযথ মূল্য আছে কি না; দ্বিতীয়ত, এই বিনিয়োগ থেকে কী প্রতিদান আসছে; তৃতীয়ত, এটি কর্মসংস্থান তৈরি করছে কি না; এবং চতুর্থত, পরিবেশগত দিক রক্ষা করা হচ্ছে কি না।’
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘এই চার শর্ত পূরণ না হলে আমার কাছে কোনো প্রকল্প আনবেন না। আমি তা ফেরত পাঠিয়ে দেব। কারণ, এগুলো বাংলাদেশের সাধারণ করদাতাদের টাকা। কোনো অবস্থাতেই এই টাকার অপচয় মেনে নেওয়া হবে না।’
চুয়েটে আইটি ইনকিউবেটর নির্মাণে বড় বিনিয়োগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘বাণিজ্যমন্ত্রী থাকার সময়, আজ থেকে প্রায় ২৪ বছর আগে আমি ঢাকায় প্রথম একটি আইটি ইনকিউবেটর করেছিলাম। তবে পরবর্তী সময়ে সরকারগুলোর ধারাবাহিক উদ্যোগ ও তদারকির অভাবে তা থেকে পুরোপুরি সুবিধা নেওয়া যায়নি।’
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘চুয়েটেও আইটি ইনকিউবেটরে বড় অবকাঠামোগত বিনিয়োগ হয়েছে। কিন্তু এই বিনিয়োগ থেকে আমরা আদৌ কোনো ভালো ফল পাচ্ছি কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’
আইটি ইনকিউবেটর পরিচালনায় একাধিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর বিশ্ববিদ্যালয়, আইসিটি মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি—এই তিনটির নিয়ন্ত্রণ থাকলে সেখানে কাজ হয় না। এটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরের বিষয়। তাই এটি চুয়েটের নিজেরই পরিচালনা করা উচিত। এখান থেকে কী ফল আসবে, তার পরিকল্পনাও চুয়েটকেই করতে হবে।’
চুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-৬ আসনের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী।







