বর্তমান নির্বাচিত সরকারের সাড়ে চার মাস সময়কালে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা পায়নি, বরং বেড়েছে রাজনৈতিক কোন্দল, সহিংসতা, এমনকি খুনোখুনি। একদিকে শাসক দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হচ্ছে, অন্যদিকে শাসক দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণেও ঘটছে সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ড। আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, স্থাপনা দখল এবং কমিটি গঠন নিয়ে দেখা দিচ্ছে বিরোধ এবং এর জেরে সংঘর্ষ হচ্ছে। একটি হিসাবে এ বছর ৫ মাসে সারা দেশে ৩৫০টির মতো রাজনৈতিক সহিংসতায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন এবং আড়াই হাজারের বেশি হয়েছেন আহত। বিএনপি ও এই দলের অঙ্গসংগঠনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে ৯০টি সহিংস ঘটনায় নিহত ও আহত হয়েছেন যথাক্রমে ১৬ ও ৮৫৩ জন। আগের বছর অন্তর্বর্তী সরকার আমলের সহিংস ঘটনার তুলনায় এই সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি।
গত জুন মাসের চিত্রও উদ্বেগজনক। বৃহস্পতিবার হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) প্রতিবেদনে দেখা যায়, ওই মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় ৯ জন নিহত ও ৩৪৬ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে মব সহিংতা ও গণপিটুনির ঘটনায় প্রাণ গেছে ৩১ জনের। এছাড়া ৩৫২ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ৪৭ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির মুখে পড়েছেন।
বলা বাহুল্য, সহিংসতার এ চিত্র জনমনে উদ্বেগ তৈরি করেছে। রাজনৈতিক কর্মী তো বটেই, সাধারণ মানুষও ভুগছে নিরাপত্তাহীনতায়। মব ও গণপিটুনির ঘটনায় এক মাসে ৩১ জনের প্রাণহানির সংবাদটি চরম উদ্বেগের। সাধারণ মানুষ ভোট দিয়ে একটি নির্বাচিত সরকার গঠন করেছে। সবার প্রত্যাশা এ সরকার দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটিয়ে সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবে। কিন্তু পরিস্থিতির উন্নতি না হয়ে অবনতি হচ্ছে। সরকারকে গভীরভাবে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে হবে। শাসক দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কেন শৃঙ্খলায় ফেরানো যাচ্ছে না, এটা এক বড় প্রশ্ন। দলের হাইকমান্ড শক্ত অবস্থান না নিলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে। শেষ কথা, যে কোনো উপায়ে সমাজে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে হবে। সরকার তথা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিতে হবে কঠোর অবস্থান। ঢিলেঢালা প্রশাসন দিয়ে পরিস্থিতি পালটানো যাবে না।








