সেবা সহজ করতে উদ্ভাবনী উদ্যোগের কারণে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে সেরা নির্বাচিত করা হয়েছে। আজ সোমবার সেরা এ পাঁচ দপ্তর-সংস্থার প্রধানদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সচিবালয়ে অর্থ বিভাগের মাল্টিপারপাস হলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উদ্যোগে ‘ইনোভেশন শোকেসিং ২০২৫-২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অনুষ্ঠান শুরুর আগে বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন অর্থমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোর মধ্যে উদ্ভাবনী সেবা মূল্যায়নের ভিত্তিতে পাঁচটি ক্যাটাগরিতে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে সেরা উদ্ভাবনী উদ্যোগের জন্য পুরস্কৃত করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল সেবা, প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম ও সেবার মানোন্নয়নে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ পুরস্কার দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক ক্যাটাগরিতে জনতা ব্যাংক পিএলসি জনতা-পে (জনতা পেমেন্ট গেটওয়ে) সেবার জন্য পুরস্কার অর্জন করেছে। এই পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে গ্রাহকদের জন্য নিরাপদ ও সহজ ডিজিটাল লেনদেনের সুযোগ তৈরি হওয়ায় উদ্যোগটি স্বীকৃতি পেয়েছে।
রাষ্ট্রমালিকানাধীন বিশেষায়িত ব্যাংক ক্যাটাগরিতে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক ‘ই-মাইগ্রেশন ঋণ সেবা (ই-মাইগ্রেশন লোন প্রসেসিং সার্ভিস-ইএমএলপিএস)’ চালুর জন্য পুরস্কৃত হয়েছে। অনলাইনে অভিবাসন ঋণের আবেদন ও প্রক্রিয়াকরণ সহজ ও দ্রুত করার কারণে এ উদ্যোগ নির্বাচিত হয়।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা ক্যাটাগরিতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) তাদের ‘ইনস্যুরেন্স মোবাইল অ্যাপ’–এর জন্য পুরস্কার পেয়েছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে বিমাসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য ও সেবা সহজে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন (বিএইচবিএফসি) ‘দলিলপত্র ফেরত প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়করণ’ উদ্যোগের জন্য পুরস্কার পেয়েছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রাহকদের দলিলপত্র ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকর হয়েছে।
অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরিতে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ‘জিআইএস বেইজড সুপারভিশন অ্যান্ড মনিটরিং সিস্টেম’–এর জন্য পুরস্কৃত হয়েছে। জিআইএসভিত্তিক এই তদারকি ও মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও দক্ষতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অধীন ২৫টি দপ্তর-সংস্থার উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রদর্শনী করা হয়েছে। এতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের দুটি করে সেবা স্থান পেয়েছে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের চিফ ইনোভেশন অফিসার ও যুগ্ম সচিব ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত বিভাগের তত্ত্বাবধানে থাকা দপ্তর ও সংস্থাগুলো মোট ৩২৯টি সেবা ডিজিটালাইজ করেছে।
ফরিদা ইয়াসমিন আরও বলেন, অর্থবছরের শুরুতে বিভাগের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন উদ্ভাবনী ধারণা (ইনোভেটিভ আইডিয়া) নিয়ে কাজ শুরু করে এবং বছরজুড়ে সেগুলো বাস্তবায়ন করা হয়। প্রতিবছরের এপ্রিল থেকে মে মাসের মধ্যে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান নিজ নিজ দপ্তর ও সংস্থায় ইনোভেশন শোকেসিং আয়োজন করে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে নির্বাচিত সেরা উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলো নিয়ে মন্ত্রণালয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে।








