টানা বৃষ্টি ও ভারতের মেঘালয় অঞ্চলের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে জেলার নিম্নাঞ্চলে সাময়িক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল থেকে শেরপুরের সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল শুরু হয়। সকাল পর্যন্ত নদীগুলোর পানি স্বাভাবিক থাকলেও দুপুরের পর থেকে তা দ্রুত বাড়তে থাকে। এতে জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশের খবর পাওয়া গেছে।
শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার তথ্য অনুযায়ী, চেল্লাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ২০৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া জেলার অন্যান্য নদ-নদীর পানিও ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ভোগাই নদীর পানি নাকুগাঁও পয়েন্টে সকালে বিপৎসীমার ১৬৪ সেন্টিমিটার নিচে থাকলেও বিকেলে তা বেড়ে বিপৎসীমার ৬৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। একইভাবে নালিতাবাড়ী পয়েন্টে সকালে বিপৎসীমার ১৫২ সেন্টিমিটার নিচে থাকা পানি সন্ধ্যায় বেড়ে বিপৎসীমার মাত্র ৪৩ সেন্টিমিটার নিচে পৌঁছেছে।
চেল্লাখালী নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় নদীতীরবর্তী এলাকায় ভাঙন এবং বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এদিকে ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশি নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলা সদর বাজারে পানি ঢুকে পড়েছে। সোমেশ্বরী নদীর পানিও বেড়ে যাওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে।

অন্যদিকে, পাহাড়ি ঢলের কারণে শ্রীবরদী উপজেলার রানিশিমুল ইউনিয়ন ও অন্যান্য ইউনিয়নের গোবিন্দপুর, চক্রপুর, বড়ইকুচি এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে পানি প্রবেশ করেছে।
শ্রীবরদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. হাসিব-উল-আহসান জানান, ইতিমধ্যে ৭০টি পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত চৌধুরী বলেন, উজানে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে শেরপুরে নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৃষ্টিপাত ইতোমধ্যে কিছুটা কমেছে। উজানে বৃষ্টি না হলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা কম। আমরা সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। জরুরি প্রয়োজনে সহায়তা দেওয়া হবে।
শেরপুরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় শেরপুর পয়েন্টে ১৩৬.৫০ মিলিমিটার, নালিতাবাড়ী পয়েন্ট ১১০ মিলিমিটার, নাকুগাঁও পয়েন্টে ১০৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
শেরপুর জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শাকিল আহমেদ বলেন, সব উপজেলায় দুর্যোগ মোকাবিলায় কমিটি সক্রিয় রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী, উপজেলা পর্যায়ে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। কোথাও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের মেঘালয় অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
মো. নাঈম ইসলাম/কেএইচকে/জেআইএম








