পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে ‘কোডিং পদ্ধতি’ চালু করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। এ পদ্ধতিতে পরীক্ষকের কাছে উত্তরপত্র যাওয়ার সময় পরীক্ষার্থীর নাম, রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর থাকবে না। খাতা দেখার সময় পরীক্ষার্থী সম্পর্কে কোনো পরিচয় জানতে পারবেন না পরীক্ষক।

প্রাথমিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি বিভাগে এ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগে এটি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সম্মেলনকক্ষে ছয়টি বিভাগের প্রতিনিধিদের কাছে কোডিং পদ্ধতি বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় উপকরণ হস্তান্তর করা হয়। সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) মো. আব্দুল আলিম ও সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) মামুনুর রশীদ এসব উপকরণ হস্তান্তর করেন।

মামুনুর রশীদ বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধার সঠিক মূল্যায়ন, ফলাফলে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং পক্ষপাতের সুযোগ বন্ধ করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের প্রথম সেমিস্টার থেকে এ পদ্ধতি কার্যকর হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কোডিং পদ্ধতিতে পরীক্ষার উত্তরপত্রের মলাটে দুটি পৃথক অংশ থাকবে। এক অংশে পরীক্ষার্থীর নাম, রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বরসহ ব্যক্তিগত তথ্য থাকবে। অন্য অংশে থাকবে একটি নির্দিষ্ট কোড নম্বর। পরীক্ষকের কাছে উত্তরপত্র দেওয়ার আগে ব্যক্তিগত তথ্যের অংশটি আলাদা করে রাখা হবে। পরীক্ষক শুধু কোড নম্বরযুক্ত উত্তরপত্র পাবেন। উত্তরপত্র মূল্যায়ন শেষে কোডের সঙ্গে সংরক্ষিত ব্যক্তিগত তথ্যের অংশ মিলিয়ে শিক্ষার্থীর প্রাপ্ত নম্বর নির্ধারণ করা হবে। এরপর নম্বরপত্র তৈরি করে ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

প্রথম পর্যায়ে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজকর্ম, পরিসংখ্যান ও উপাত্ত বিজ্ঞান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে এ পদ্ধতি প্রয়োগ করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগকে এর আওতায় আনা হবে।