ফারহানা আফরিন রুপা (৪৫) পাঁচ বছর ধরে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। যশোর জেনারেল হাসপাতালের নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ-এনসিডি (অসংক্রামক রোগ) কর্নারে নিয়মিত চিকিৎসা নেন। সেখানে বিশেজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ও বিনামূল্যের ওষুধ পেতেন। কিন্তু কয়েক মাস ধরে সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। মিলছে না ডায়াবেটিসের ওষুধ। তাই শুধু নিয়মিত চেকআপ সেরে ফিরে যেতে হচ্ছে। পাশে দাঁড়ানো বেলি বেগম (৬০) দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন, ওষুধ কেনার পয়সা নেই। সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যের ওষুধই আমাদের ভরসা। কিন্তু ওষুধ পাচ্ছি না। বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে খুবই কষ্ট হচ্ছে।

শুধু ফারহানা আফরিন রুপা বা বেলি বেগম নয়, তাদের মতো অনেকেই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ক্যানসার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইসিস, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ার মতো এনসিডি আক্রান্ত হয়ে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নির্ভর হয়ে পড়েছেন।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের এনসিডি কর্নারে সরেজমিন দেখা যায়, কক্ষের সামনে রোগীদের লম্বা সারি। ডায়াবেটিস, প্রেসার মেপে রোগীদের পাঠানো হচ্ছে অন্য চিকিৎসকের কাছে। এনসিডি কর্নারের সিনিয়র স্টাফ নার্স রেশমা খাতুন জানান, প্রতিদিন গড়ে ১০০ থেকে ১২০ রোগীকে এখানে নিয়মিত চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. হুসাইন সাফায়েত বলেন, এনসিডি নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রকল্প রয়েছে। এর আওতায় চিকিৎসার ওষুধ সরবরাহ করা হয়। ওষুধের চাহিদা প্রচুর। সব সময় চাহিদামতো ওষুধ সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। জনবল ঘাটতি থাকায় বর্তমানে এনসিডি কর্নারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিতে পারছি না।

সচেতনতার বিকল্প নেই উল্লেখ করে ডা. সাফায়াত বলেন, এনসিডির বীজ ছোটবেলা থেকেই মানুষের শরীরে রোপিত হয়। শিশুদের শারীরিক সক্রিয়তা বাড়াতে হবে। প্রতিদিন অন্তত ২ ঘণ্টা খেলাধুলা বা দৌড়ঝাঁপ করতে হবে। এ ছাড়া খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা জরুরি। একজন সুস্থ মানুষের প্রতিদিন পাঁচ গ্রামের বেশি লবণ, মাসে দেড় লিটারের বেশি তেল খাওয়া উচিত নয়। প্রতিদিন ৪০০ গ্রাম শাকসবজি খাদ্য তালিকায় রাখা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। এনসিডি হলে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জীবনযাপন করতে হবে।’ যশোর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের তথ্যমতে, এনসিডির রোগীদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন বাবদ ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান দেয় সরকার। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের শেষ ছয় মাসে (তৃতীয় ও চতুর্থ কিস্তি) যশোর জেলার আট উপজেলার ৭৮০ জন রোগী সরকারি সহায়তার জন্য আবেদন করেছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৪০৪ জন ক্যানসার, ১৪৫ জন স্ট্রোকে প্যারালাইজড, ৯০ জন কিডনি, ৬৫ জন জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত, ৬০ জন থ্যালাসেমিয়া ও ১৬ জন লিভার সিরোসিসের রোগী। জেলায় প্রতিনিয়ত এনসিডি রোগী বাড়ছে। সরকারি অনুদানের আশায় আবেদন করলেও বরাদ্দ সংকটে সবার মিলছে না অনুদান।

এ বিষয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) কাজী কাদের মোহাম্মদ ফজলে রাব্বী বলেন, জেলায় সরকারিভাবে বরাদ্দ অর্থে চারশ রোগীকে অনুদান দিতে পারব। বিগত বছরে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হতো। নতুন অর্থবছরে সরকার অনুদান দ্বিগুণ করেছে।