ইউনিলিভার বাংলাদেশের কান্ট্রি প্রকিউরমেন্ট লিড দিলরুবা আহমেদ চৌধুরী বলেছেন, আমাদের ইউনিলিভারে গ্লোবালি যে কমিটমেন্ট রয়েছে সেটি হলো, আমরা যতটুকু প্লাস্টিক বাজারে দেই, অন্তত ততটুকু বা তার চেয়েও বেশি প্লাস্টিক সংগ্রহ করবো। এই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ২০২২ সাল থেকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এবং ইফসার (ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন) সঙ্গে অংশীদারত্বে চট্টগ্রামে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সংগ্রহের একটি প্রকল্প শুরু করেছি।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরে বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ‘বাংলাদেশে টেকসই প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: চ্যালেঞ্জ ও অংশীদারদের দায়িত্ব' শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ যৌথভাবে এ বৈঠকের আয়োজন করেছে। বৈঠকের মিডিয়া পার্টনার জাগোনিউজ২৪.কম।

দিলরুবা আহমেদ চৌধুরী বলেন, ২০২২ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত আমরা প্রায় ৩৩ হাজার টন প্লাস্টিক সংগ্রহ করেছি। ইউনিলিভারের বিশ্বাস, প্লাস্টিককে একটি লুপের মধ্যে আনতে হবে। আর এই লুপ তৈরি করাই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সেই লক্ষ্যেই আমরা সার্কুলার ইকোনমিতে অবদান রাখছি।

আরও পড়ুন

পরিবেশ অধিদপ্তরের ডিজি / সবাই এগিয়ে এলে প্লাস্টিক বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব 

তিনি বলেন, এবছর আমাদের লক্ষ্য ৮ হাজার টন প্লাস্টিক সংগ্রহ করা। বাংলাদেশের মোট প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপাদনের তুলনায় এটি হয়তো খুবই সামান্য। দেশে বছরে প্রায় ৮ লাখ টন প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপাদিত হয়। সেখানে আমাদের ৮ হাজার টন সংগ্রহ খুবই ইনসিগনিফিকেন্ট নাম্বার। কিন্তু একটি দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমাদের বৈশ্বিক কমিটমেন্ট হলো—আমরা যতটুকু প্লাস্টিক তৈরি করি, অন্তত প্লাস্টিক নিউট্রাল কিংবা প্লাস্টিক নেগেটিভ হওয়ার দিকে কাজ করবো। সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই ২০২২ সাল থেকে এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

আরও পড়ুন

ফেলে দেওয়া প্লাস্টিককে সম্পদে রূপ দিচ্ছে প্রাণ-আরএফএল

বর্জ্য সংগ্রহ কর্মীদের জীবনমান উন্নয়ন নিয়ে ইউনিলিভার বাংলাদেশের কান্ট্রি প্রকিউরমেন্ট লিড বলেন, এটি শুধু প্লাস্টিক সংগ্রহের প্রকল্প নয়। এর পাশাপাশি ওয়েস্ট শপ সেলার, স্ক্র্যাপ-সংশ্লিষ্ট কর্মী এবং বর্জ্য খাতের শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নেও আমরা কাজ করছি। তাদের স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আনা, নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া, পুরো চ্যানেলটিকে আনুষ্ঠানিক খাতের আওতায় নিয়ে আসা এবং তাদের ব্যাংক হিসাব খুলতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ করা, স্বচ্ছভাবে রিপোর্ট করা এবং নিয়মিত সাইক্লিক অডিটের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হচ্ছে যে, আমরা যা করতে চাই এবং যা করছি তা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

আরও পড়ুন

নিজেদের পরিবেশ নিজেদেরই রক্ষা করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

এক্সটেন্ডেড প্রডিউসার রেসপন্সিবিলিটি (ইপিআর) বিষয়ে তিনি বলেন, শুরু থেকেই কোম্পানি এ বিষয়ে খুবই সম্পৃক্ত এবং আমরা এ নিয়ে কাজ করছি। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানার প্রয়োজন হলে আমাদের সংশ্লিষ্ট সাসটেইনেবিলিটি ডিরেক্টর আরও বিস্তারিত বলতে পারবেন। তবে নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকেই আমাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। আমাদের গ্লোবাল কনসালট্যান্ট ডিরেক্ট লাস্ট গ্লোবাল বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায়ও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ইনপুট দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সঙ্গেও এ কাজ চলমান।

যতটুকু প্লাস্টিক বাজারে দেই ততটুকু বা তার বেশি সংগ্রহ করবোগোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত অতিথিরা, ছবি: জাগো নিউজ

পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (বর্জ্য ও কেমিক্যাল ব্যবস্থাপনা) রাজিনারা বেগমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান। অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জিয়াউল হক, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (আইন) খালেদ হাসান, পরিচালক (প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা) এ কে এম রফিকুল ইসলাম, পরিচালক (পরিকল্পনা শাখা) মো. হাসান হাসিবুর রহমান, পরিচালক (আইটি) মো. সাদিকুল ইসলাম, উপ-পরিচালক (বর্জ্য ও রাসায়নিক পদার্থ ব্যবস্থাপনা) ড. আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ পরিবেশ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর মো. মাহবুবুর রহমান তালুকদার, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা, বাংলাদেশ পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেডের (বিপিসিএল) প্রধান নির্বাহী খাদেম ইউসুফ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিব আহমেদ, বুয়েটের আরবান ও রিজিওনাল প্ল্যানিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাকিল আক্তার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল কাদের ইবনে কামাল, বিইউপির পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আরিফুর রহমান ভূঁইয়া, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (বিপণন) কামরুজ্জামান কামাল ও হেড অব সাসটেইনেবিলিটি সুমাইয়া তাবাসসুম আহমেদ, জাতিসংঘ শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (ইউনিডো) বাংলাদেশের ন্যাশনাল প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর সত্য ভট্টাচার্য, ব্র্যাকের পরিচালক ড. মো. লিয়াকত আলী, লাফার্জ হোলসিমের ডেপুটি ম্যানেজার (জিওসাইকেল) তামরিন চৌধুরী, নেসলে বাংলাদেশের এইচআর ডিরেক্টর হোসনে আরা লোমা, ম্যারিকো বাংলাদেশের ডিরেক্টর (লিগ্যাল অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স) রাশেদ এহসান, ওয়েস্ট কনসার্নের কো ফাউন্ডার ও ডিরেক্টর ইফতেখার এনায়েতুল্লাহ, জাগো নিউজের সম্পাদক কে এম জিয়াউল হক, সমকালের সিনিয়র রিপোর্টার জাহিদুর রহমান প্রমুখ বৈঠকে অংশ নেন।

আরএএস/ইএ