যাত্রী সংকটে বিপর্যের মুখে পড়েছে যশোর বিমানবন্দর। যাত্রীর সংখ্যা কমে আসায় একসময় দৈনিক ১৮টি ফ্লাইট চলাচল করলেও এখন এক সপ্তাহে চলছে মাত্র নয়টি। এদিকে, লোকসানের মুখে বেসরকারি সংস্থা ইউএস-বাংলা ১৬ জুলাই থেকে যশোর-ঢাকা রুটে তাদের ফ্লাইট বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। তবে, প্রশাসন বলছে-ফ্লাইট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে আগের অবস্থায় ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা সেতু চালুর পর বদলে গেছে দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ। সময় ও দূরত্ব কমায় সড়ক ও রেলপথেই এখন বেশি যাতায়াত করছেন যাত্রীরা। তবে, বড় ধাক্কা লেগেছে এই অঞ্চলের একমাত্র যশোর বিমানবন্দরে। ঢাকা-যশোর রুটে বিমানের যাত্রী নেমে এসেছে অর্ধেকেরও নিচে।
২০২৩ সালের ৩১ জুলাই আধুনিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ভবন নির্মাণ হলেও যাত্রী সংকটে একের পর এক কমছে নিয়মিত ফ্লাইটের সংখ্যা। আগে যেখানে প্রতিদিন বাংলাদেশ বিমান, ইউএস-বাংলা, নভো এয়ার, রিজেন্ট, জিএমজি ও ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের মতো সর্বোচ্চ ১৮টি পর্যন্ত ফ্লাইট ওঠানামা করতো, এখন পুরো সপ্তাহে ফ্লাইট চলছে মাত্র ৯টি।
বর্তমানে সীমিত পরিসরে ডানা মেলছে বিমান বাংলাদেশ ও ইউএস-বাংলা। এমন লোকসানের মুখে ১৬ জুলাই থেকে এ রুটে ফ্লাইট পুরোপুরি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। শুধু বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের শুক্র ও মঙ্গলবার সপ্তাহে দুইটি ফ্লাইট চলবে। তাও আবার বিকালে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিমান যাত্রী কমার পেছনে কেবল সড়ক যোগাযোগই নয়, অতিরিক্ত ভাড়া এবং ভারতের ভিসা জটিলতাও বড় কারণ।
যশোর বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা অর্থনৈতিক চাকা হঠাৎ থমকে যাওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় অংশীজনদের মধ্যে। পরিস্থিতি বিবেচনায় বিমানবন্দর এলাকায় বুধবার মানববন্ধন করেছে ট্রাভেল এজেন্সি, ভাড়ায় চালিত গাড়ির চালক ও ব্যবসায়ীরা। দক্ষিণবঙ্গ ট্রাভেল এজেন্সি ঐক্যজোটের ব্যানারে নেতারা বিভিন্ন দাবি জানান। কর্মসূচিতে নেতারা প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় নিয়মিত ফ্লাইট, যশোর রুটে অতিরিক্ত বিমান ভাড়া কমিয়ে অন্য রুটের সঙ্গে ন্যায়সঙ্গত ভাড়া নিশ্চিতের দাবি জানান।
ট্রাভেল এজেন্সির মালিক গিয়াস উদ্দিন বাদশা বলেন, আগে যশোর ঢাকা রুটে দিনে ১৮টি ফ্লাইট চলতো। এখন সেটা দুইটিতে আছে দাঁড়িয়েছে। ১৬ জুলাই ইউএস-বাংলা ফ্লাইট বন্ধ হয়ে গেলে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে।
যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যুগ্ম সম্পাদক এজাজ উদ্দিন টিপু বলেন, দেশের বৃহত্তর স্থল বেনাপোল ও নৌবন্দর রয়েছে এই জেলায়। এ কারণে যশোর অর্থনৈতিক দিক থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ জেলা। এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের তাদের ব্যবসা পরিচালনার জন্য যশোর-ঢাকা বিমানের মাধ্যমে যাতায়াত করতে হয়। ঢাকা থেকে প্রতিদিন সকালে ব্যবসায়ীরা এসে সারাদিন কাজ করে রাতে আবার চলে যায়। এই ফ্লাইট বন্ধ হওয়ার মাধ্যমে অনেক ব্যবসায়ী এ অঞ্চল থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নেবে। এতে ব্যবসার পরিচালনা করতে অনেক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) কামরুল ইসলাম বলেন, আগে যশোর বিমানবন্দরে আমাদের প্রতিদিন ৬টি ফ্লাইট চলাচল করত। কিন্তু এখন একটি ফ্লাইটেই যাত্রী ঠিকমতো হচ্ছে না। সবদিক বিবেচনা করে সাময়িকভাবে যশোর-ঢাকা রুটের ফ্লাইটটি বন্ধ করতে হচ্ছে। যাত্রীদের চাহিদা বাড়লে আবারও চালুর বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হবে।
যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইতোমধ্যে কথা বলেছি ফ্লাইট বাড়ানোর জন্য। যেহেতু যশোর এ অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা ও হাব। সেজন্য ফ্লাইট বাড়ালে যাত্রী হবে। খুব শিগগিরই বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের সঙ্গে কথা বলা হবে। তাছাড়া গদখালীর ফুল ও যশোরের সবজি বিদেশে রপ্তানির চেষ্টা করছি। সেজন্য সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলেছি। যেহেতু যশোরে এয়ারপোর্ট আছে, সেজন্য কার্গো বিমান চালু করা যায় কি-না। ইতোমধ্যে আমরা অনেক দূর এগিয়ে গেছি। ইউএস বাংলাসহ অন্য এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ফ্লাইটগুলো চালু করার চেষ্টা করব।








