ফরিদপুরে ‘শ্রমিক কল্যাণ’ তহবিলের নামে যাত্রীবাহী বাস থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগে চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনার প্রতিবাদে শ্রমিক সংগঠনের ডাকে প্রায় ২০ ঘণ্টা বাস চলাচল বন্ধ থাকে। পরে আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়ার পর বুধবার দুপুর থেকে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে শহরতলির মুন্সিবাজার এলাকা থেকে চারজনকে আটক করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন। আটক ব্যক্তিরা হলেন মো. ফরহাদ, মো. দিলু, মো. জুলফিকার ও মতি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত প্রায় ১০ দিন ধরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন যাত্রীবাহী বাস থেকে ‘শ্রমিক কল্যাণ’ তহবিলের নামে রসিদ দিয়ে ৩০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছিল। রসিদে আন্তজেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন ও ফরিদপুর মোটর ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের নাম উল্লেখ ছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।

আটকের প্রতিবাদে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে ফরিদপুরে লোকাল মিনিবাস চলাচল বন্ধ করে দেন শ্রমিকেরা। পরে রাত ৯টার দিকে আন্তজেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল মান্নান মানা, ফরিদপুর মোটর ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী ইবনে ইলিয়াসসহ শ্রমিকনেতারা কোতোয়ালি থানায় পুলিশের সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে ওই বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

বুধবার সকালেও লোকাল ও আন্তজেলা রুটে বাস চলাচল বন্ধ থাকে। পরে দ্বিতীয় দফার বৈঠকের পর আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়া হলে দুপুর ১২টার দিকে বাস চলাচল পুনরায় শুরু হয়।

আন্তজেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল মান্নান মানা বলেন, ‘আমাদের চারজন শ্রমিককে আটকের প্রতিবাদে শ্রমিকেরাই বাস চলাচল বন্ধ রেখেছিলেন। তাঁদের মুক্তির পর বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।’ তিনি দাবি করেন, শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের জন্য সংগঠনের নিয়ম অনুযায়ী এই অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছিল। এটি কোনো চাঁদাবাজি নয়; অসুস্থ ও মৃত শ্রমিকদের পরিবারকে সহায়তা দিতেই এ অর্থ ব্যয় করা হয়।

ফরিদপুর মোটর ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী ইবনে ইলিয়াসও একই দাবি করে বলেন, সংগঠনের নির্দেশনা অনুযায়ী এ অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছিল।

তবে টাকাগুলো বিধি-বহির্ভূতভাবে তোলা হয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আটকের পর শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের ডাকা হয়েছিল ৷ তাঁরা জানিয়েছেন, তাঁদের নির্দেশে আটক ব্যক্তিরা টাকা তুলছিলেন এবং সবাই বাসের শ্রমিক বলে জানিয়েছেন। তবে আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখেছি—তাঁরা যে প্রক্রিয়ায় টাকা তুলছিল সেটা বৈধ কোনো প্রক্রিয়া নয় বা কোনো নির্দেশনা নেই। পরে সঠিক প্রক্রিয়ায় টাকা তোলার মুচলেকা দিলে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।’

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও জেলা বাস মালিক সমিতির দায়িত্বরত প্রশাসক মো. সোহরাব হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, এই টাকা উত্তোলনের কতটুকু বৈধতা আছে, তা তাঁর জানা নেই। তবে শ্রমিকনেতারা বলেছেন, আশপাশের বিভিন্ন জেলায় এভাবে টাকা তোলা হয়, সে কারণে তাঁরাও তুলছেন। এ ছাড়া আটককৃতদের ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে তাঁর জানা নেই বলে জানান।