আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির প্রধান মূল্যসূচক সৌদি কনট্রাক্ট প্রাইস (সৌদি সিপি) কমে যাওয়ায় জুলাই মাসের জন্য দেশের বেসরকারি খাতের এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
গত বুধবার (২ জুলাই) বিইআরসির জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জুলাই মাসের জন্য সৌদি আরামকো প্রোপেনের কনট্রাক্ট প্রাইস (সিপি) প্রতি মেট্রিক টন ৫৮০ মার্কিন ডলার এবং বিউটেনের সিপি ৬০০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করেছে। প্রোপেন ও বিউটেনের ৩৫:৬৫ অনুপাত অনুযায়ী গড় সৌদি সিপি দাঁড়িয়েছে প্রতি মেট্রিক টন ৫৯১ মার্কিন ডলার। জুন মাসে এই গড় মূল্য ছিল ৬৮০ মার্কিন ডলার। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক বাজারে গড় মূল্য ৮৯ ডলার কমেছে।
এই মূল্যহ্রাসের প্রভাবেই দেশে এলপিজির দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
আরও পড়ুন
ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশে এলপিজির দাম বেশি কেন?
এছাড়া রেটিকুলেটেড ব্যবস্থায় তরল অবস্থায় সরবরাহ করা এলপিজির দাম প্রতি কেজি ১২৩ টাকা ৫৫ পয়সা এবং গ্যাসীয় অবস্থায় সরবরাহ করা এলপিজির দাম প্রতি লিটার ০.৭২৪৮ টাকা বা প্রতি ঘনমিটার ৭২৪ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, অটোগ্যাসের নতুন খুচরা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি লিটার ৭০ টাকা ৮০ পয়সা, যা আগের মাসের তুলনায় কম। নতুন দাম ২ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হয়েছে। তবে সরকারি এলপিজির ১২ দশমিক ৫ কেজির সিলিন্ডারের মূল্য ৭৭৬ টাকা ৯৩ পয়সা অপরিবর্তিত থাকবে।
জুলাই মাসের জন্য এলপিজির দাম
প্রতি কেজিতে কমেছে ২৯ টাকা ৭৬ পয়সা। এতে বাজারে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারে দাম কমেছে ৩৫৭ টাকা। এর আগে গত মাসে কমেছিল ৫৫ টাকা। এখন নতুন দাম হয়েছে ১ হাজার ৫২৮ টাকা।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববাজারে এলপিজির দাম বেড়ে যায়। দেশের ইতিহাসে গত এপ্রিলে সর্বোচ্চ দাম বৃদ্ধি হয় এলপিজির। এপ্রিলের শুরুতে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারে দাম বাড়ানো হয় ৩৮৭ টাকা। এরপর একই মাসের ১৯ এপ্রিল আবার বাড়ানো হয় ২১২ টাকা। এতে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারে দাম হয় ১ হাজার ৯৪০ টাকা। পরের মাসে দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়।
আরও পড়ুন
১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কমলো ৩৫৭ টাকা
তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি শুরু হলে বিশ্ববাজারে এলপিজির দাম কমতে শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় জুন মাসে দাম কমে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারে দাম হয় ১ হাজার ৮৮৫ টাকা।
২০২১ সালের এপ্রিল থেকে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে বিইআরসি। এলপিজি তৈরির মূল উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন আমদানি করা হয় বিভিন্ন দেশ থেকে। প্রতি মাসে এলপিজির এই দুই উপাদানের মূল্য প্রকাশ করে সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান আরামকো। এটি সৌদি কার্গো মূল্য (সিপি) নামে পরিচিত।
এই সৌদি সিপিকে ভিত্তিমূল্য ধরে দেশে এলপিজির দাম সমন্বয় করে বিইআরসি। আমদানিকারক কোম্পানির চালান (ইনভয়েস) মূল্য থেকে গড় করে পুরো মাসের জন্য ডলারের দাম হিসাব করে বিইআরসি।
জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশে এলপিজির কাঁচামাল সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর। ফলে প্রতি মাসে সৌদি আরামকোর ঘোষিত সৌদি সিপির সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিবহন ব্যয়, ডলার বিনিময় হার, বন্দর ও বিপণন ব্যয়সহ বিভিন্ন খরচ বিবেচনায় নিয়ে বিইআরসি দেশের এলপিজির সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করে। এবার আন্তর্জাতিক বাজারে সৌদি সিপি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় এর সরাসরি সুফল পেয়েছেন ভোক্তারা।
এনএস/ইএ








