টানা ১০ ঘণ্টায় রেকর্ড ১৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতে যশোর শহর ও জেলার নিম্নাঞ্চলে তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে বিভিন্ন সড়ক ও আবাসিক এলাকা, অনেক বাড়িঘরে ঢুকে পড়েছে বৃষ্টির পানি। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। এ পরিস্থিতিতে পানিবন্দি প্রায় দুই হাজার পরিবারের মধ্যে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
যশোর বিমানবাহিনীর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টা থেকে আজ শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১০ ঘণ্টায় ১৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে রাত ২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত ১১০ মিলিমিটার এবং ভোর ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আরও ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের টিবি ক্লিনিক, খড়কি, ধর্মতলা রোড, আপন মোড়, চারখাম্বার মোড়, মুজিব সড়কের রেলগেট এলাকা, নাজির শংকরপুর, বেজপাড়া, মিশনপাড়া, আরবপুর, বিমানবন্দর সড়ক, স্টেডিয়ামপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটুপানি জমে রয়েছে। অনেক পুকুর, মাঠ ও নিচু জমিও পানিতে তলিয়ে গেছে।
শহরের টিবি ক্লিনিক এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, জলাবদ্ধতা এখন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। জনপ্রতিনিধিরা বারবার আশ্বাস দিলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি।
শংকরপুর এলাকার বাসিন্দা নাসরিন আক্তার বলেন, পুরো এলাকায় পানি জমে গেছে। অনেক বাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে গেছে। এখন সবাই পানি নামার অপেক্ষায় রয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি শহরের অপরিকল্পিত ও অকার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণেই জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার নিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ড্রেন আবর্জনা ও পলিতে ভরাট হয়ে থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারছে না।
যশোর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী বিএম কামাল আহম্মেদ বলেন, পৌর প্রশাসকের নেতৃত্বে প্লাবিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, মেডিকেল কলেজের পাশের একটি সরু ড্রেন সম্প্রসারণ করা গেলে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব, তবে স্থানীয়দের আপত্তির কারণে তা করা যায়নি।
এদিকে রেকর্ড বৃষ্টিপাতে পৌর এলাকার ১,৫, ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতার কারণে মানুষ ঘরবন্দি হয়ে পড়েন। তাদের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের উদ্যোগে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়। শুক্রবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে শংকরপুর, রেলগেট, খড়কি, টিবি ক্লিনিকসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় দুই হাজার পরিবারের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, জলাবদ্ধতায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আপাতত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে দুই হাজার পরিবারের মধ্যে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।








