আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে তফসিল ঘোষণা করে অক্টোবরের প্রথমার্ধে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। এরপর পর্যায়ক্রমে পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন করার চিন্তা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনও (ইসি) ইউপি নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইসি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে প্রাথমিক পথরেখা প্রণয়ন করেছে ইসি। ইউপি, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য পৃথক রোডম্যাপ করা হয়েছে। চলতি মাসের শেষ দিকে এগুলো চূড়ান্ত করে প্রকাশ করা যেতে পারে।
জাহেদ উর রহমান জানান, আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে তফসিল ঘোষণা করে অক্টোবরের প্রথমার্ধে ইউপি নির্বাচন করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আর নির্বাচন শুরু হওয়ার পর ১০ থেকে ১২ মাসের মধ্যে স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন সম্পন্ন হবে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য তাঁদের প্রস্তুতি রয়েছে। কোন কোন ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ পাঁচ বছর পূর্ণ হয়েছে, সেই তথ্য জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে। ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য আলাদা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
ইসি ও সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, স্থানীয় সরকারের প্রায় সব স্তরেই এখন নির্বাচিত প্রতিনিধি নেই। এ কারণে একসঙ্গে সব নির্বাচন না করে ধাপে ধাপে ভোট করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে সীমানা নির্ধারণ, আইন ও বিধিমালা সংশোধন, আচরণবিধি চূড়ান্ত করা এবং সরকারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের ওপর চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ভর করবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়ার কথা বলেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও। তিনি গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বলেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু করার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশন কাজ করে যাচ্ছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য তাঁদের প্রস্তুতি রয়েছে। কোন কোন ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ পাঁচ বছর পূর্ণ হয়েছে, সেই তথ্য জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে। ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য আলাদা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সর্বশেষ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২১ সালের ২১ জুন। ওই দিন প্রথম ধাপে ২০৪টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয়।
স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইনে বলা আছে, কোনো ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত পরিষদের প্রথম সভা থেকে পাঁচ বছর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সর্বশেষ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২১ সালের ২১ জুন। ওই দিন প্রথম ধাপে ২০৪টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয়।
এই ২০৪টি ইউনিয়ন পরিষদ বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, ভোলা, বরগুনা ও পটুয়াখালী জেলার। এসব ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, বিগত সরকারের মতো বর্তমান সরকারও কয়েক ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করবে।
এদিকে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, প্রায় সাড়ে চার হাজারের বেশি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষে আইন, বিধিমালা ও আচরণবিধি সংশোধনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আচরণবিধির খসড়া ইতিমধ্যে কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের মতামত যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় সংযোজন-বিয়োজনের পর আচরণবিধি চূড়ান্ত করা হবে।
ইসি মনে করছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বড় চ্যালেঞ্জ হবে। বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশি থাকে এবং অতীতে এ নির্বাচন ঘিরে সংঘাত-সহিংসতার নজির রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ গত সোমবার নির্বাচন ভবনে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসির (আরএফইডি) এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের অনেক বিষয়ে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় প্রয়োজন। সীমানা নির্ধারণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয় সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যুক্ত। তাই সরকারের সঙ্গে লিখিত-অলিখিত আলোচনা ছাড়া ইসির পক্ষে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে স্পষ্ট ঘোষণা দেওয়া সংগত হবে না। তবে ইসি অক্টোবরকে সামনে রেখে কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।
ধাপে ধাপে ভোট আয়োজন করে প্রতিটি ধাপের অভিজ্ঞতা মূল্যায়নের ভিত্তিতে পরবর্তী ধাপের নিরাপত্তা পরিকল্পনা করার চিন্তা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যদের দায়িত্বে রেখে নির্বাচন পরিচালনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
একই অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সব ধরনের প্রাক্-প্রস্তুতি কমিশন নিয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধির খসড়া ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকারের নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ স্থানীয় সরকার বিভাগ করে থাকে। এটি যাতে দ্রুত হয়, সে জন্য ইসি সমন্বয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ইসি মনে করছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বড় চ্যালেঞ্জ হবে। বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশি থাকে এবং অতীতে এ নির্বাচন ঘিরে সংঘাত-সহিংসতার নজির রয়েছে। এবার ধাপে ধাপে ভোট আয়োজন করে প্রতিটি ধাপের অভিজ্ঞতা মূল্যায়নের ভিত্তিতে পরবর্তী ধাপের নিরাপত্তা পরিকল্পনা করার চিন্তা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যদের দায়িত্বে রেখে নির্বাচন পরিচালনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।








