কিশোরগঞ্জের হাওড় উপজেলা মিঠামইনে স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের ঘটনায় কিশোরীর লাশ ১২ দিনেও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনায় জড়িতদের বিচার চেয়ে প্রায় প্রতিদিনই বিক্ষোভ করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী।

২৭ জুন রাতে মিঠামইনের মহিষারকান্দি এলাকার ঘোড়াউত্রা নদীতে নিয়ে নৌকায় ধর্ষণ শেষে হত্যা করে হাত-পা বেঁধে লাশ ফেলে দেয় দুর্বৃত্তরা। এর আগে অস্ত্রের মুখে দুর্বৃত্তরা তাকে অপহরণ করে। পরে গ্রেফতার দুই যুবক পুলিশের কাছে ও আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তারা হলেন উপজেলা সদরের সদরের মহরপুর বেড়িবাঁধ এলাকার মাঈন উদ্দিনের ছেলে হৃদয় মিয়া (২০) ও তার ফুপাতো বোনের স্বামী ইমরান হোসেন (২৫)।

পরে মেয়েটি হাত-পা বাঁধা জলে ভাসা একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে ক্ষোভে ফুঁসছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবক ও এলাকাবাসী। প্রায় প্রতিদিন মিঠামইনে হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ হচ্ছে।

২৭ জুন প্রাইভেট পড়তে বাড়ি থেকে বের হয়ে ঘোড়াউত্রা নদীর বাজারঘাট এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় ওই শিক্ষার্থী। পরদিন প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে আবদুল হামিদপল্লী এলাকায় নদীতে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক কিশোরীর লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা। পরে ওই ছবি ছড়িয়ে পড়লে মেয়েটির স্বজন তা দেখে শনাক্ত করে। কিন্তু পুলিশ আসার আগেই লাশটি স্রোতে অন্য কোথাও ভেসে যায়।

এ নিয়ে কথা হলে কিশোরগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সিনিয়র সদস্য মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় লাশ উদ্ধার না হলে সুরতহাল প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্ত হয় না। আসামিপক্ষ ‘নো-বডি মার্ডার’-এর ফাঁদ তৈরি করে সুবিধা লুটতে পারে। এক্ষেত্রে মামলা অনেকটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

মিঠামইন থানার ওসি মো. লিয়াকত আলী যুগান্তরকে বলেন, লাশের খোঁজে আশপাশের সব থানায় বার্তা পাঠানো হয়েছে। পুলিশ, নৌপুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা নদীপথে ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন।