বহুল আলোচিত জয়পুরহাট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রীনিবাসের অস্থায়ী নারী তত্ত্বাবধায়ক (ম্যাট্রন) সামছুন নাহার হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। মামলায় কলেজের দারোয়ান শহিদুল ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ১৩ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও আড়াই মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার জয়পুরহাটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. তসরুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) আহসান হাবীব চপল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের ২১ নভেম্বর রাতে জয়পুরহাট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রীনিবাসের অস্থায়ী ম্যাট্রন সামছুন নাহার নিখোঁজ হন। চার দিন পর তাঁর ভাই ফেরদৌস আলম লুলু সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্তে গ্রেপ্তার হওয়া কলেজের দারোয়ান শহিদুল ইসলামের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিখোঁজের ১৮ দিন পর কলেজের ছাত্রীনিবাসের সেপটিক ট্যাংক থেকে সামছুন নাহারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, শহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে সামছুন নাহারকে অনৈতিক সম্পর্কের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করতেন। ঘটনার দিন প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে হত্যার আলামত গোপন করতে মরদেহ সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখা হয় এবং নিহতের স্বর্ণালংকার লুট করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ২০১০ সালের ৫ এপ্রিল অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ রায় দেন।
জয়পুরহাট আদালতের পুলিশ পরিদর্শক আবু বকর সিদ্দিক জানান, রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্ত শহিদুল ইসলামকে কড়া পুলিশি পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।








