একজন খেলোয়াড় কয়বার ক্লাব বদলাতে পারেন? আপনি হয়তো বলতে পারেন নিকোলাস আনেলকার মতো কারও কথা, যিনি ক্যারিয়ারে ১২টি ক্লাবের হয়ে খেলেছেন। কিন্তু ক্যারিয়ারে ৩৯টি ক্লাব বদল! অভাবনীয় এই কীর্তিটা ইংল্যান্ডের জেফ টমাসের।

টমাস কোনো নামীদামি ফুটবলার নন। শুরুটা প্রতিশ্রুতিময় হলেও পূর্ণকালীন পেশাদার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয়নি তাঁর। এরপরই বেছে নেন এক অচেনা পথ, যেখানে গন্তব্যের চেয়ে যাত্রাপথই হয়ে ওঠে মূল আকর্ষণ।

শুধু ২০১৩-১৪ মৌসুমেই তিনি শেফিল্ড, মিকলওভার স্পোর্টস, স্কারবোরো অ্যাথলেটিক, ম্যাটলক টাউন ও গুলে নামে ৫টি ক্লাবে সই করেন একের পর এক। ২০১৬-১৭ মৌসুমে মিকলওভার দিয়ে খেলা শুরু করার পর শ লেন, স্ট্যাফোর্ড রেঞ্জার্স ও ফ্রিকলি অ্যাথলেটিক ঘুরে আবার ফেরেন মিকলওভারেই। ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ব্রাইটহাউস টাউনে নিজের দ্বিতীয় মেয়াদে কাটান ক্যারিয়ারের সবচেয়ে দীর্ঘ সময়।

কতগুলো ক্লাব বা শহরে যে খেলেছেন, তার সঠিক হিসাব টমাসের নিজের কাছেও নেই। হাসতে হাসতেই বললেন, ‘গুনে শেষ করা যাবে না।’

তবে এই দীর্ঘ বিচিত্র যাত্রায় একটি মুহূর্ত তাঁর কাছে বিশেষ হয়ে আছে। স্টকসব্রিজ পার্ক স্টিলসের হয়ে খেলার সময় হ্যালিফ্যাক্স টাউনের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। সেদিন তাঁর প্রতিপক্ষ দলের তরুণ ফরোয়ার্ড ছিলেন জেমি ভার্ডি। সেই ভার্ডিই পরে ইংল্যান্ড জাতীয় দলে খেলেছেন এবং ২০১৫-১৬ মৌসুমে লেস্টার সিটির হয়ে প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জিতেছেন। সেদিন একই মাঠে মুখোমুখি হলেও পরে দুজনের পথ বদলে যায়। একজন পৌঁছান অনন্য চূড়ায়, অন্যজন থেকে যান অলিগলিতে।

সামনে সবার বাঁয়ে জেফ টমাস। সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের জাতীয় দলের জার্সিতে

এমনিতে কোনো আক্ষেপ না থাকলেও টমাস মনে করেন, কোচদের নির্দেশ মানার ক্ষেত্রে তাঁর মনোভাব সব সময় সঠিক ছিল না। মাঠে খেলার পর রিকভারি রানের গুরুত্ব নিয়ে একসময় তাঁর মনে সংশয় ছিল। এখন পেছনে ফিরে তাকালে বোঝেন, মনোভাব আরেকটু পরিণত হলে ক্যারিয়ারের পথটা আরও মসৃণ হতে পারত।

বারবার দল বদলানোর মূল কারণটা যে অর্থ, তা লুকিয়ে রাখেননি টমাস। নিজেই স্পষ্ট করে বলেন, ‘টাকার জন্য ওপরে উঠেছি, নাহলে পাশের ক্লাবে গিয়েছি।’ তবে এই যাযাবর জীবন তাঁকে ভিন্ন ভিন্ন কোচের দর্শন ও নানা সংস্কৃতির ফুটবলের সঙ্গে পরিচয় করিয়েছে, যে শিক্ষা কোনো ক্লাসরুমে পাওয়া যায় না।

আর্জেন্টিনার কোচ হিসেবে স্কালোনিই ‘প্ল্যান এ, বি এবং সি’

বর্তমানে ডিয়ার্ন অ্যান্ড ডিস্ট্রিক্টের মাঠ থেকে মাত্র ৫ মিনিটের হাঁটা দূরত্বের এক বাড়িতে পরিবার নিয়ে বাস করছেন তিনি। স্ত্রী মারি এবং দুই সন্তান জেরোম (১১) ও লুসিয়াকে (৭) নিয়ে তাঁর এই সংসার।

খাতা-কলমে এখনো ক্লাবের হয়ে খেলা চালিয়ে গেলেও ডাগআউটে দাঁড়িয়ে খেলা দেখাই এখন টমাসের বেশি পছন্দ। পাশাপাশি ডার্বি কাউন্টির অনূর্ধ্ব-১২ দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনি। তাঁর কোচিংয়ে দলটি ২০২৫ সালে মাদ্রিদে অরেঞ্জ ভেইনস টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।

জেফ টমাস এখন কোচিংও করান

নিজের কোচিং জীবন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে টমাস স্বীকার করেন, নিজেকে মাঝেমধ্যে তাঁর ভণ্ড মনে হয়। কারণ, তরুণ বয়সে যে টাকার টানে একের পর এক ক্লাব বদলেছেন, আজ নিজের খুদে শিষ্যদের ঠিক তার উল্টো পরামর্শ দেন। তিনি ছেলেদের বলেন, ‘টাকা আসবে, তার আগে নিজের খেলাটায় মন দাও।’

ফুটবলার হিসেবে টমাস কখনো বড় মঞ্চে আলো ছড়াতে পারেননি। তবে আজ ছোট্ট মাঠের ডাগআউটে দাঁড়িয়ে তিনিই হয়ে উঠেছেন নতুন প্রজন্মের পথপ্রদর্শক। নিজে যে ভুল পথ এড়িয়ে চলতে পারেননি, তরুণদের এখন সেই সহজ ও সঠিক পথটাই দেখাচ্ছেন জেফ টমাস।

৫ হাজারতম ওয়ানডেতে মুখোমুখি স্কটল্যান্ড-কানাডা, ১ থেকে চার হাজারতম ওয়ানডে খেলেছিল কারা