আজ থেকে আড়াই শতাব্দী আগে, ১৭৭৬ সালে আমাদের প্রতিষ্ঠাতা নেতারা স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে তাঁরা এমন এক বিশ্বাসের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, যা তাঁদের কাছে ছিল মানুষের জন্মগত ও মৌলিক অধিকার, নিজেদের শাসন করার অধিকার।
‘আমরা এই সত্যগুলোকে স্বতঃসিদ্ধ বলে মনে করি যে সব মানুষকে সমানভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে। সৃষ্টিকর্তা তাদের এমন কিছু অধিকার দিয়েছেন, যা কেউ কেড়ে নিতে পারে না। এর মধ্যে রয়েছে জীবন, স্বাধীনতা এবং সুখ অন্বেষণের অধিকার। আর মানুষের এই অধিকার রক্ষার জন্যই সরকার গঠিত হয়। জনগণের সম্মতিই সরকারের ক্ষমতার ভিত্তি।’
ইংল্যান্ডের সঙ্গে দীর্ঘদিনের নানা অভিযোগ ও মতপার্থক্যের প্রেক্ষাপটে স্বাধীনতা অর্জনের সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা তুলে ধরার পর আমাদের প্রতিষ্ঠাতা নেতারা ঘোষণা করেছিলেন, ‘এই ঐক্যবদ্ধ উপনিবেশগুলো স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং ন্যায়সংগতভাবেই তাদের সেই মর্যাদা প্রাপ্য।’ এরপর তারা নিজেদের জীবন, সম্পদ এবং পবিত্র সম্মান বাজি রেখে সেই ঘোষণার প্রতি অটল থাকার অঙ্গীকার করেছিলেন।

এ ছিল সাহসী এক ঘোষণা। দুই শতাব্দীর বেশি সময় ধরে আমেরিকার স্বাধীনতার ঘোষণা যথার্থভাবেই বিশ্বজুড়ে মানুষের কল্পনাকে আলোড়িত করেছে। নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার অর্জনের আকাঙ্ক্ষায় মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভাষায়, মাত্র এক টুকরা পার্চমেন্ট কাগজ এবং ৫৬টি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়েই মানব ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক যাত্রার সূচনা করেছিল আমেরিকা। কিন্তু সেটি কেবল একটি ঘোষণা ছিল না। স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র গড়ে তোলার স্বপ্নকে আমেরিকানরা বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন এবং সেই লক্ষ্যে নিজেদের জীবন পর্যন্ত বাজি রেখেছিলেন।
আমাদের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরকারী সেই ৫৬ জন সাহসী মানুষ জানতেন, তাঁদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতে পারে। তাঁরা জানতেন, সামনে অপেক্ষা করছে দীর্ঘ ও কঠিন এক যুদ্ধ, যে যুদ্ধে তাঁদের অনেকে হয়তো বেঁচে ফিরবেন না। তবু তাঁরা নিজেদের আদর্শে অটল ছিলেন এবং আমেরিকাকে সবার আগে রেখেছিলেন।
আজ যখন আমরা আমাদের স্বাধীনতার ঘোষণার ২৫০তম বার্ষিকী উদ্যাপন করছি, তখন আমরা শুধু আমাদের প্রতিষ্ঠাকালীন আদর্শই স্মরণ করছি না। আমরা কূটনীতির দীর্ঘস্থায়ী ভূমিকাও স্মরণ করছি, যা আমাদের জাতির পথচলা এবং বিশ্বপরিসরে আমেরিকার প্রভাব গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।
আজ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বে আমরা আবারও আমেরিকা ফার্স্ট নীতিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। তখন যেমন, এখনো তেমনি আমেরিকা ফার্স্ট মানে আমেরিকা একা নয়। স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় আমেরিকানরা তাঁদের মিত্রদের কাছ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা পেয়েছিলেন।
আজও আমরা এমন নীতি অনুসরণ করছি, যা আমেরিকার মানুষের কল্যাণে কাজ করে। একইভাবে বাংলাদেশের নেতারাও এমন নীতি নিচ্ছেন, যা বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণে সহায়ক। আর এভাবেই আমরা প্রায়ই এমন ক্ষেত্র খুঁজে পাই, যেখানে দুই দেশই লাভবান হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি এবং মে মাসে স্বাক্ষরিত জ্বালানি খাতে কৌশলগত সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক। এগুলো দুই দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়তা করছে। এটাই কূটনীতির মূল কথা।
তাই আজ যখন আমরা আমাদের স্বাধীনতার ঘোষণার ২৫০তম বার্ষিকী উদ্যাপন করছি, তখন আমরা শুধু আমাদের প্রতিষ্ঠাকালীন আদর্শই স্মরণ করছি না। আমরা কূটনীতির দীর্ঘস্থায়ী ভূমিকাও স্মরণ করছি, যা আমাদের জাতির পথচলা এবং বিশ্বপরিসরে আমেরিকার প্রভাব গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।
আমেরিকা প্রতিষ্ঠার এই ঐতিহাসিক মাইলফলক উদ্যাপনে আমাদের আয়োজনগুলো ফ্রিডম ২৫০ বৈশ্বিক উদ্যোগের অংশ। এই উদ্যোগের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাকালীন আদর্শ, অর্থাৎ স্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং মুক্তির চেতনাকে স্মরণ ও উদ্যাপন করা হচ্ছে।
ফ্রিডম ২৫০ শুধু অতীতের দিকে ফিরে তাকানোর উপলক্ষ নয়; এটি ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাওয়ার এক সূচনা মঞ্চ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দূরদর্শিতায় আমরা নতুন অংশীদারত্ব গড়ে তুলছি, উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিচ্ছি এবং কূটনীতির এক নতুন যুগের রূপরেখা তৈরি করছি, যা আগামী ২৫০ বছরের পথচলায় আমাদের এগিয়ে নিয়ে যাবে।
আমেরিকা যখন তার ২৫০তম জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন করছে, তখন আমরা বিশ্বের নানা প্রান্তের বন্ধুদের প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। তাঁদের মাঝে বাংলাদেশের মানুষও রয়েছেন।
জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহজুড়ে আমেরিকা সপ্তাহ এবং ২০২৬ সালজুড়ে আমাদের সঙ্গে আমেরিকার জন্মদিন উদ্যাপনে আপনাদের আমন্ত্রণ জানাই। আসুন, আমরা একসঙ্গে উদ্যাপন করি স্বাধীনতা, বন্ধুত্ব এবং অভিন্ন ভবিষ্যতের যৌথ অঙ্গীকার।
ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত






