ভারতে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশনে বসেছিলেন সমাজকর্মী ও প্রকৌশলী সোনম ওয়াংচুক। ২৬ দিন পর সেই অনশন ভেঙেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ৫৯ বছর বয়সী ওয়াংচুক জানান, বিভিন্ন শর্ত নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পর এবং দেশে সম্ভাব্য সহিংসতা এড়ানোর স্বার্থে তিনি অনশন ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—এমন আশ্বাস পাওযার পরই ওয়াংচুক অনশন ভেঙেছেন বলে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন

ফোন জ্যামার-সাদা কাপড় / অনশনরত সোনম ওয়াংচুককে ‘সিনেমা স্টাইলে’ তুলে নিয়ে গেল পুলিশ

‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামে পরিচিত একটি যুব আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে গত ২৮ জুন থেকে অনশন শুরু করেছিলেন ওয়াংচুক। শিক্ষা সংস্কারের পাশাপাশি ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন করছে সংগঠনটি।

অনশন চলাকালে ওয়াংচুক জানিয়েছিলেন, তার ওজন প্রায় ১১ কেজি কমেছে, তবে তিনি তখনো সুস্থভাবে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন। গত শনিবার (১৮ জুলাই) দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভস্থল থেকে তাকে জোর করে তুলে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ।

ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—এমন আশ্বাস দেওয়ার পরই ওয়াংচুক অনশন প্রত্যাহার করেন। এ সময় ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন।

আরও পড়ুন

অনশনরত সোনম ওয়াংচুকের সমর্থনে মমতাপন্থি তৃণমূলের ধরনা

ওয়াংচুকের অনশন ভাঙার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে এক্সে লেখেন, ‘২৬ দিনের অনশন শেষে সোনম স্যার অনশন ভেঙেছেন—এতে আমরা স্বস্তি ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত দিল্লির যন্তর-মন্তরে সিজেপির শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি চলবে।

এদিকে, দিল্লিতে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। গত সোমবার পার্লামেন্ট অভিমুখে মিছিল ঘিরে পুলিশের কঠোর অভিযানে বহু আন্দোলনকারী ও পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার পরও আন্দোলন থেমে নেই।

সাম্প্রতিক সময়ে সিজেপি ভারতের অন্যতম দৃশ্যমান যুব আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। ২০১৪ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে এটিকে অন্যতম বড় জনঅসন্তোষের প্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি: সোনাম ওয়াংচুকের পক্ষে সরব বলিউড তারকারা

প্রশ্নফাঁস ও বিভিন্ন নিয়োগ ও ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে গত মে মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভিত্তিক ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন হিসেবে সিজেপির যাত্রা শুরু হয়। পরে এটি দেশজুড়ে একটি বৃহৎ যুব আন্দোলনে রূপ নেয়।

আন্দোলনকারীরা নিজেদের ‘ককরোচ’ বা তেলাপোকা বলে পরিচয় দেন। তারা এক মাসের বেশি সময় ধরে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন। আন্দোলনকারীদের মধ্যেও কয়েকজন অনশনে অংশ নিয়েছেন।

তাদের প্রধান দাবি, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় নৈতিক দায় স্বীকার করে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। তবে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে গত মে মাসের শুরুতে ওই ভর্তি পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছিল।

সূত্র: বিবিসি

এমএমকে