আবারও পিছিয়ে গেলো বহুল কাঙ্ক্ষিত পিরোজপুর ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালের উদ্বোধন। ৩০ জুন লিফট ছাড়াই চালু হওয়ার কথা ছিল হাসপাতালটি। কিন্তু নির্দিষ্ট এই তারিখে উদ্বোধন না হওয়ায় চিকিৎসা প্রত্যাশীদের ভেতরে দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ। এর আগে এপ্রিল মাসেও লিফ্‌ট ছাড়া উদ্বোধনের একটি ডেট ছিল কিন্তু তখনও নির্দিষ্ট সময় তা করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। জুনে দ্বিতীয় দফায়ও উদ্বোধন করতে ব্যর্থ হয়। এবারে পর্যাপ্ত ফার্নিচারের অভাবে নির্দিষ্ট সময়ে উদ্বোধন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। দ্রুত হাসপাতালটি উদ্বোধন করে সাধারণ মানুষের উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার দাবি স্থানীয়দের।

হাসপাতালটি চালু হলে জেলার বহু মানুষ আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসা সেবার সুযোগ পাবে কিন্তু পর্যাপ্ত ফার্নিচারের অভাবে নির্দিষ্ট সময়ে উদ্বোধন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন কর্মকর্তা। এটি চালু হলে শুধু পিরোজপুর নয়, আশেপাশের প্রায় ২০ লাখ মানুষ আধুনিক চিকিৎসাসেবা পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

১৯৮৪ সালে ৩১ শয্যা নিয়ে পিরোজপুর সদর হাসপাতালের যাত্রা শুরু হলেও ১৯৯৭ সালে নির্মিত হয় ৫০ শয্যার নতুন ভবন। ২০০৫ সালে সেটি ১০০ শয্যার হাসপাতালে রুপান্তর হয়। ২০১৭ সালে পিরোজপুরবাসীর জন্য ২৫০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের ঘোষণা দেওয়া হয়। শুরুতে ৭ তলা করার পরিকল্পনা হলেও পরে ৯ তলায় উন্নীত হয়।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২৫০ শয্যার হাসপাতালটি এখনো লিফ্‌ট ও বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় উদ্বোধন হয়নি। গণপূর্ত বিভাগ জানিয়েছে, লিফট আসতে আরো দু-তিন মাস সময় লাগবে। তাই সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবার কথা চিন্তা করে প্রাথমিকভাবে লিফট ছাড়াই চারটি ফ্লোর উদ্বোধনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

চিকিৎসা প্রত্যাশী আল ইমরান বলেন, ‘হাসপাতালটি ৩০ জুন উদ্বোধন না হওয়ায় বিষয়টি আমাদের আশাহত করেছে। দীর্ঘদিন থেকে এলাকার মানুষ উন্নত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত। ফার্নিচার ও অন্যান্য সরঞ্জাম হাসপাতালে এখন পর্যন্ত আনা হয়নি। এ বিষয়গুলো কর্তৃপক্ষের নজরে রাখা উচিত ছিল। সবকিছু ব্যবস্থা করে একটি নির্দিষ্ট উদ্বোধনের তারিখ দেওয়া উচিত ছিল।’

পিরোজপুর জেলা উন্নয়ন নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব মাইনুল আহসান মুন্না বলেন, ‘আজকে পিরোজপুর ২৫০ শয্যা হাসপাতালটি উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল কিন্তু নানান ওসিলায় এর উদ্বোধনের তারিখ পিছিয়ে যাচ্ছে। এভাবে বারবার উদ্বোধনের তারিখ পিছিয়ে যাওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। শীঘ্রই এ সমস্যার সমাধান করা উচিত।’

জেলা সিভিল সার্জন কর্মকর্তা ডা. মো. মতিউর রহমান বলেন, ‘গণপূর্ত বিভাগ আরও ১৫ দিন সময় চেয়েছে। এরমধ্যে সকল ফার্নিচার তারা সরবরাহ করতে পারবে। আশাকরি তারা ফার্নিচার দিলে এক থেকে দুই দিনের মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং সভাপতির সঙ্গে সমন্বয় রেখে হাসপাতালটি উদ্বোধন করব ‘

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীর সংকট রয়েছে। নতুন ভবন চালু হলে সমস্যা আরো প্রকট আকার ধারণ করবে। সে বিষয়টিও আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তারা আশ্বাস দিয়েছেন অতি শীঘ্রই আমাদের চিকিৎসক এবং জনবলের সংকটটি সমাধান করবে।’

গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা প্রতিমন্ত্রী স্যারের সাথে কথা বলে একটি তারিখ নির্ধারণ করব। বিদ্যুৎ নিয়েও কোনো সমস্যা নেই। ফার্নিচার চলে এসেছে। ফার্নিচারগুলো বিভিন্ন ফ্লোরে সেটআপ করে উদ্বোধনের জন্য একটি তারিখ দেবো। ৩০ জুন একটি সম্ভাব্য তারিখ ছিল, কিন্তু এটা ফাইনাল ছিল না।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর সুমন বলেন, ‘হাসপাতালটি অনেক বছর ধরে ফেলে রাখা হয়েছিল বিগত সরকারের আমলে। আমরা দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে এটাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। ১৫ দিনের মধ্যেই ফার্নিচারের সমাধান হবে ইনশাল্লাহ। আপাতত তিনটা ফ্লোর চালু করব। অক্টোবরের মধ্যে লিফ্‌ট চলে আসলে আর কোনো সমস্যা থাকবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করবো, তিনি যদি নাও আসতে পারেন অন্তত ভার্চুয়ালি যেন উদ্বোধন করেন।

তিনি আরও বলেন, সারাদেশেই ডাক্তার-নার্স সহ হসপিটালে জনবলের খুব অভাব। চেষ্টা করা হচ্ছে কীভাবে এই হাসপাতালটি শুরু করার আগেই ন্যূনতম যা দরকার সেগুলোর ব্যবস্থা করা।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘বর্তমানে ডায়ালিসিস মেশিন, আইসিইউ এবং লাইভ সাপোর্টের জন্য যা দরকার সবকিছুর ব্যাপারে চিন্তা করা হচ্ছে। পিরোজপুরবাসী যাতে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারে সেজন্য আমরা কাজ করছি।

হাসপাতালটি চালু হলে পিরোজপুর জেলা ও আশেপাশের প্রায় ২০ লাখ মানুষ আধুনিক চিকিৎসা সেবার সুযোগ পাবে।’

মো. তরিকুল ইসলাম/এএইচ/এএসএম