সকালের অতি বৃষ্টিতে মাগুরার বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। রাস্তা-ঘাট, বসতবাড়ি ও নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল, বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থী, কর্মজীবী ও কৃষকরাও। অতীতেও ভারী বৃষ্টিতে মাগুরা শহরে জলাবদ্ধতার এমন চিত্র দেখা গেছে। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই দায়ী করছেন স্থানীয়রা।
বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, সকালের টানা বৃষ্টিতে মাগুরা শহরের পৌর এলাকার ৯ নং ও ৭ নং ওয়ার্ডে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। রিকশাচালক, দিনমজুর ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয় কমেছে। অন্যদিকে কৃষকরাও উদ্বিগ্ন। পানি জমে অনেক জমির ফসল ক্ষতির মুখে পড়েছে ।

মাগুরা হাসপাতাল পাড়ার বাসিন্দা ডাক্তার তাসুকুজ্জামান বলেন, ‘ভোর থেকে মিলছে না সূর্যের দেখা। সকাল থেকে বারোটা পর্যন্ত একভাবে চলছে প্রবল বর্ষণ। ফলে আমাদের পাড়ার পুকুর, ডোবা, ড্রেন তলিয়ে গেছে। রাস্তাঘাটে জমেছে বৃষ্টির পানি। মাগুরা পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থা পরিকল্পিত না হওয়ায় বর্তমান ড্রেন দিয়ে ভালোভাবে পানি নিষ্কাশন হয় না।’
নিজনান্দুয়ালির বাসিন্দা শাহানাজ পারভিন বলেন, ‘বৃষ্টি হলেই আমাদের এলাকায় পানি জমে যায়। বাড়িতেও পানি ঢুকে, রাস্তায় চলাচল করা যায় না। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পানি নিষ্কাশনের সংকটের কারণে সামান্য ভারী বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।’

নিজনান্দুয়ালির গৃহিণী রোমেসা খাতুন বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে রান্না ঘর তলিয়ে গিয়েছে, ঘরের ভেতরে রান্না করছি। পানির নিচে রাস্তার গর্ত দেখা যায় না। দুর্ঘটনার ভয় নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। দ্রুত ড্রেনের ব্যবস্থা করা দরকার।’
অতি বৃষ্টিতে মাগুরা শহরের ৯নং ও ৭নং ওয়ার্ডে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পুনর্বাসনে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে এলাকাবাসী জানান।
মো. মিনারুল ইসলাম জুয়েল/এএইচ/এএসএম








