দীর্ঘ চার দশক ধরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের উপর একটি স্থায়ী সেতুর অপেক্ষায় রয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। দায়িত্বশীলদের উদ্যোগের অভাবে বছরের পর বছর ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করেই চলাচল করছে স্থানীয়রা। তবে, বর্ষা মৌসুমে পারাপারের সেই সাঁকোও ভেঙে নৌকাই হয়ে উঠেছে একমাত্র ভরসা।
উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের গোলনগর এবং সনমান্দী ইউনিয়নের দৌলরদী গ্রামের মাঝ দিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদী বয়ে গেছে। নদীর দুই তীরের তিনটি ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগের জন্য কোনো পাকা সেতু নেই। এর ফলে দৌলরদী, গোলনগর, কুমারচর, দড়িকান্দি, জোয়ারদী, মুছারচর ও পঞ্চমীঘাট সহ আশপাশের অন্তত ২০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষকে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও অসুস্থ রোগীদের জন্য এটি এক ধরনের অভিশাপে পরিণত হয়েছে।
জানা গেছে, যাতায়াতের সুবিধার্থে স্থানীয়দের উদ্যোগে প্রতিবছর শুকনো মৌসুমে অর্থ তুলে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়। কিন্তু প্রতিবারই বর্ষাকালে নদীর পানি বেড়ে গেলে সাঁকোটি ডুবে যায় বা ভেঙে পড়ে। এরপরেই শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, নারী, শিশু ও রোগীদের চলাচল পুরোপুরি নির্ভর করে নৌকার উপর।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বর্ষার পানির কারণে সাঁকোটি ভেঙে গেছে। ফলে সাঁকো দিয়ে চলাচল করা সম্ভব না হওয়ায় নৌকায় পাঁচ টাকা ভাড়ার বিনিময়ে নদী পারাপার হচ্ছেন। তবে দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার হচ্ছে, পারাপারের মাধ্যম নৌকা তিনটির মধ্যে দু'টির ত্রুটির কারণে বর্তমানে যাতায়াতে একটি ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই পারাপার হতে হয়। সামান্য অসতর্কতায় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কাও থাকে।
এলাকাবাসী জানান, সাঁকো পারাপারের সময় বহু মানুষ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। একটি মেয়ে মৃত্যুবরণও করেছেন। কারো হাত-পা ভেঙেছে, কেউ স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্বও বরণ করেছেন। তবু বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
দেলোয়ার হোসেন নামক এক নৌকার যাত্রী বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্র নদের উপর একটি সেতু না থাকায় শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে অনেক সমস্যা তৈরি হচ্ছে৷ আমাদের তিনটি ইউনিয়নের মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সরকারের কাছে একটি সেতু নির্মাণের আবেদন জানাই।’

নৌকার মাঝি দুলাল মিয়া বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্র নদীতে একটা সেতু প্রয়োজন। কারণ পারাপার করতে গিয়ে মানুষের কষ্ট দেখতে পাই। বিশেষ করে পঞ্চমী বাজারে আসা-যাওয়া এবং স্কুলের শিশুদের পারাপারে খুবই সমস্যার সৃষ্টি হয়। তাই সরকারের কাছে একটাই দাবি, এখানে একটা সেতু নির্মাণ হোক।’
সেতু নির্মাণ বিষয়ে সোনারগাঁ উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আলমগীর হোসেন চৌধুরীকে ফোন দিয়ে কথা বলার সময়ে নিজের পরিচয় লুকান। পরবর্তীতে আবারও বেশ কয়েকবার ফোন করা সত্ত্বেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্র নদীতে সাঁকো ছিল কবে, আমার তা জানা নেই। ছবি তুলে পাঠান।’
মো.আকাশ/কেজে/জেআইএম








